


সংবাদদাতা, মালদহ: স্নাতক স্তরের সেমেস্টার পরীক্ষার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের (মাইনর) একটি পেপারের প্রশ্নপত্রে ছিল অন্য পেপারের প্রশ্ন। বিষয়টি সামনে আসতেই বদলে অন্য প্রশ্ন দেওয়া হয় পরীক্ষার্থীদের। ওই ঘটনার জেরে এবার সংশ্লিষ্ট পেপারের পরীক্ষা বাতিল করল গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, বদল করা হল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধানকে। তিনি পদাধিকার বলে স্নাতক স্তরে ওই বিষয়ের বোর্ড অব স্টাডিজের চেয়ারম্যানও। শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ বৈঠকের পরে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ‘তড়িঘড়ি’ এই সিদ্ধান্ত আসলে ‘প্রকৃত দোষীকে আড়াল করার চেষ্টা’ বলে অভিযোগ করেছেন অধ্যাপক তথা এগজিকিউটিভ কাউন্সিল (ইসি) সদস্যদের একাংশ।
বৃহস্পতিবার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের তৃতীয় সেমেস্টারের (পুরনো সিলেবাস) মডার্ন ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল থট পেপারের পরীক্ষা ছিল। কিন্তু ওই পেপারের প্রশ্নপত্রে ‘কমপারেটিভ পলিটিকস’ বিষয়ক অন্য পেপারের প্রশ্ন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। দুপুর দু’টো থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পরে বিষয়টি সামনে আসে। এরপরেই বোর্ড অব স্টাডিজের সদস্যরা দ্রুত ফোনে বৈঠক সারেন। সিদ্ধান্ত হয় নতুন প্রশ্ন দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট পেপারের পূর্ণমান ৪০ থাকলেও নতুন প্রশ্নপত্রে তা ছিল ৫০। পরীক্ষার্থীদের ৪০ নম্বরের উত্তর দিতে বলা হয়। বিকল্প প্রশ্নপত্র বিতরণের পর নতুন করে দুই ঘণ্টার পরীক্ষাও নেওয়া হয়েছিল।
শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈঠক ডাকেন উপাচার্য আশীষ ভট্টাচার্য। ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জ্যোৎস্না সাহা, কলা ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ডিন রজতকিশোর দে, পরীক্ষা সমূহের নিয়ামক বিশ্বরূপ সরকার, উপ নিয়ামক বিনয় হালদার, স্নাতকোত্তর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ও স্নাতক বোর্ড অব স্টাডিজের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থশঙ্কর মান্না প্রমুখ। প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক চলে। এরপরই ওই দুই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান স্নাতকোত্তর বিভাগের নতুন প্রধান করা হয়েছে বাদল সরকারকে। পদাধিকার বলে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্নাতক স্তরের বোর্ড অব স্টাডিজের চেয়ারম্যানও হবেন।
উপাচার্য বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের একটি পেপারে প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত সমস্যার জেরে ওই বিষয়ের বোর্ড অব স্টাডিজের চেয়ারম্যান বদল করা হয়েছে। বোর্ড অব স্টাডিজের পূর্বতন চেয়ারম্যান তাঁর ত্রুটি মেনে নিয়েছেন। যে পেপারের পরীক্ষা ছিল, সেটি বাতিল করা হয়েছে। পরীক্ষার নতুন দিনক্ষণ কয়েক দিনের মধ্যেই জানিয়ে দেবেন পরীক্ষা সমূহের নিয়ামক।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসি সদস্য তথা গণিতের অধ্যাপক সনাতন দাস বলেন, কোনো তদন্ত কমিটি বা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি না করেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে একজনকে। এটি স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত। এক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিউট (বিধি) লঙ্ঘিত হয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিদায়ী প্রধানকে ফোন করা হলে ধরেননি। মেসেজের জবাবও দেননি।
তবে প্রশ্ন মডারেশন কমিটির সদস্য এক কলেজ শিক্ষক বলেন, এখানে নির্দিষ্ট কাউকে দায়ী করা অনুচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস যেভাবে বদল হয় তাতে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা থাকে। প্রশ্ন যেখানে ছাপা হয় সেখানেও কোনো গলদ ছিল কিনা তাও দেখা উচিৎ ছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।