


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: হলির দুপুরে মধ্যমগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড। যার জেরে প্রাণ হারালেন বছর ৭০ বয়সি এক ব্যক্তি। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম দয়াল শীল (৭০)। তিনি মিষ্টির দোকানের কর্মচারী বলে প্রাথমিক অনুমান। অগ্নিকাণ্ডের জেরে ছাই হয়ে গিয়েছে একাধিক দোকানঘর। দমকলের মোট পাঁচটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে আছে। কীভাবে আগুন লাগল, তা নিয়ে এখনই কিছু বলতে নারাজ দমকল আধিকারিকরা। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে একটি খাবারের দোকানে প্রথমে আগুন লাগে। সেখান থেকে স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে পাশের কাঠের গোলায়। ফলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন বিধ্বংসী আকার ধারণ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, খাবারের দোকানে একাধিক এলপিজি সিলিন্ডার রাখা ছিল। একের পর এক সেগুলিতে বিস্ফোরণ ঘটায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। লেলিহান শিখা গ্রাস করে পার্শর্বর্তী একের পর এক দোকানকে।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দমকলের মোট পাঁচটি ইঞ্জিন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় দমকলকর্মীদের। এখনও কয়েকটি ‘পকেটে’ আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। সেগুলি নেভাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। বিশাল বাহিনী সহ ঘটনাস্থলে এসেছেন বারাসত পুলিশ জেলার পদস্থ কর্তারা। এই মুহূর্তে গোটা এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। এলাকায় রয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক রথীন ঘোষ, পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ, ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ্য রাহা সহ অন্যান্যরা।
রেল স্টেশন ববং বিমানবন্দর লাগোয়া এলাকায় এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে গোটা এলাকা। কার্যত দমবন্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এলাকার মানুষের। ভয়ে তাঁরা বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় ভিড় জমিয়েছেন। প্রত্যেকের মুখেই মাস্ক। দমকলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগুন এখন মোটের উপরে নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও তা সম্পূর্ণ নেভেনি। কিছু কিছু এলাকায় পকেট ফায়ার আছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানানো সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।