Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জামুড়িয়ায় খনি ধসে মৃত এক, জখম ১১, ইসিএলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ

বৃহস্পতিবার জামুড়িয়া থানার পড়াশিয়ায় ইসিএলের কয়লা খনিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন ১১ জন শ্রমিক।

জামুড়িয়ায় খনি ধসে  মৃত এক, জখম ১১, ইসিএলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ
  • ১৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জামুড়িয়া: বৃহস্পতিবার জামুড়িয়া থানার পড়াশিয়ায় ইসিএলের কয়লা খনিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন ১১ জন শ্রমিক। জখমরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ভূগর্ভস্থ খনিতে কাজ চলাকালীনই বিশাল আকারের কয়লার চাল ধসে পড়ে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অল্পবিস্তর চোট পেয়েছেন আরও বহু মানুষ। ধসের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, ভূপৃষ্ঠের উপরে থাকা ডুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনারও পরই ইসিএলের শীর্ষকর্তারা ছুটে আসেন। শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, ইসিএল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নিয়ে গাফিলতির জন্যই এই ঘটনা। খনির যে অংশ বালি ভরাট করা উচিত ছিল, তা ঠিকঠাক না করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিজেপি ও সিপিএমের জেলা নেতৃত্ব। তাঁরা উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ তদন্ত করার পাশাপাশি মৃত শ্রমিকের পরিবারকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

Advertisement

হাইড্রলিক স্টোয়িং পদ্ধতিতে চলত ইসিএলের কুনুস্তোড়িয়া এরিয়ার পড়াশিয়া কোলিয়ারি। হা‌ই঩ড্রলিক স্টোয়িং পদ্ধতিতে ভূগর্ভে একদিকে কয়লা কাটতে হয়, অন্য দিক থেকে বালি ভরাট করতে হয়। যাতে উপর থেকে ধস না নামে। মোট ২০৩ জন শ্রমিক পড়াশিয়া কোলিয়ারির ১ ও ২ নম্বর পিটে কাজ করেন। তার মধ্যে ৭৪ জন বৃহস্পতিবার প্রথম শিফটে ওই দু’টি পিটে কাজ করছিলেন। সকাল দশটা নাগাদ ভূগর্ভস্থ খনির ‘কে ১৬’ প্যানেলের বিশালকার চাল বা চাঙর উপর থেকে ধসে পড়ে। খাদানের ২৭ নম্বর সুড়ঙ্গের উপর এই চালটি ছিল। চাঙর ধসে পড়ার ফলে সেই সুড়ঙ্গে বিপুল ‘এয়ার প্রেশার’ তৈরি হয়। সেই বাতাসের চাপ ওই সুড়ঙ্গে কর্মরত শ্রমিকদের ছিটকে ফেলে। হাওয়ার চাপ এতটাই বেশি ছিল যে, ১৫০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত ডুলিকেও তা ক্ষতিগ্রস্ত করে। শোরগোল পড়ে যায় এলাকাজুড়ে। সাময়িক ধাক্কা সামলে উদ্ধারকার্যে নামে ইসিএল। কোলিয়ারির মুখে (চানক) একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স আসতে থাকে। ডুলি করে জখম শ্রমিকদের বের করে প্রথমে ইসিএলের কুনুস্তোড়িয়ার এরিয়ার বাঁশড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গুরুতর জখমদের দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। উদ্ধারকার্যের সময়ে উঠে আসে মৃত দেবা‌ই মুন্ডার দেহ। ৫৯ বছরের ওই শ্রমিকের মুখ থেঁতলে গিয়েছিল। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃতের স্ত্রী অনিতা মুন্ডা মৃতদেহ আগলে বসেছিলেন কোলিয়ারির চানকের সামনে। তিনি বলেন, পরিবারের উনিই একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন। এরপরই শ্রমিকরা মৃতের পরিবারের একজনকে চাকরি ও জখমদের সবরকম চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে ঘিরে ধরে। কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ তাঁদের দাবি মেনে নেয়। 
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়, সিটু অনুমোদিত কোলিয়ারি মজদুর সভার সভাপতি জিকে শ্রীবাস্তব। তাঁরা বলেন, প্রাথমিক ভাবে যা বোঝা যাচ্ছে, কয়লা মাটির গভীর থেকে কেটে দেওয়ার পর সঠিক ভাবে বালি ভরাট হয়নি। দিনে মাত্র দু’ ঘণ্টা করে বালি ভরাট করা হতো যা মোটেই পর্যাপ্ত নয়। সেই কারণেই এই ধস নামে। 
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিজেপির জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, আমি সিএমডির সঙ্গে কথা বলেছি, প্রয়োজনে কয়লা মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। কোনোরকম গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নিতে হবে। যদিও গাফিলতির কথা অস্বীকার করেছেন ইসিএলের এজেন্ট বিজয় কুমার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ