


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার দক্ষিণপ্রান্ত জুড়ে বয়ে গিয়েছে দামোদর নদী। বার্নপুর থেকে তিরাট, নারায়ণকুড়ি বিস্তীর্ণ এলাকাতেই দামোদর নদী মারণ ফাঁদের রূপ নিয়েছে। জলে ডুবে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সেই এলাকা থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হওয়ার পর এনিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানিয়েছেন, যে সব জায়গা স্নান করার জন্য নিরাপদ তা পুলিশকে চিহ্নিত করে দিতে হবে। বিপদজনক স্থানে রেলিং করতে হবে। পুলিশকে ধারাবাহিক নজরদারি চালাতে হবে। যদি কোন এলাকায় জলে ডুবে মৃত্যু হয়। সেই এলাকার পুলিশ কর্মী বা অফিসারকে আমি সাসপেন্ড করে দেব।
শনিবার রাতে বার্নপুরে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বার্নপুর রিভারসাইড স্কুল সংলগ্ন একটি মাঠে কিশোররা ফুটবল খেলছিল। সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ঝড়ে সময়ে সেখানে বজ্রপাত হয়। তাতেই প্রাণ হারায় শেখ ফিরোজ নামে একজন ১৬ বছরের কিশোর। তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই হাসপাতালে চলে আসেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি পুরো বিষয়টি খোঁজ নেন। এর আগে শনিবার বিকালে বার্নপুর শ্যাম বাঁধ এলাকায় অন্য একটি শোকার্ত পরিবারের বাড়ি গিয়েছিলেন তিনি। সাম্প্রতিকালে ওই পরিবারের ছেলে, মেয়ে দামোদরে স্নান করতে গিয়ে তলিয়ে দিয়েছিল। দুটি বিষয় নিয়েই জেলা হাসপাতালে এসে সরব হন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। তিনি বলেন, ঝড় বৃষ্টির সময়ে যাতে কেউ মাঠে খেলা ধুলো না করে তা দেখছে হবে স্থানীয় ক্লাবগুলিকে। বাচ্চা, ছোট ছেলেরা তো এতসব বোঝে না। পুলিশ, প্রশাসনকেও বিষয়টির উপর নজর রাখতে হবে। যাতে ঝড়, বৃষ্টি বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকলে কেউ যেন রাস্তায়, মাঠে না থাকে। আমরা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে পারি, প্রাণ তো ফিরিয়ে দিতে পারব না।
এরপরই দামোদরে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন তিনি। তিনি বলেন, আমি এমন একটি পরিবারের সঙ্গে মিলিত হয়েছি যাঁদের ছেলে, মেয়ে একসাথে জলে ডুবে মারা গিয়েছেন। এই ঘটনা প্রায় হয়। তার কারণ, দামোদর থেকে তৃণমূল আমলে দেদার বালি লুট হয়েছে। নদী কোথায় দশ ফুট গভীর কোথায় ৫০ ফুট। তৃণমূলের এই লুটের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষগুলিকে। আর বালি লুট হবে না। এছাড়া নদীতে যাতে জলে ডুবে যাতে মৃত্যু না হয় তার জন্য কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। ফের জলে ডুবে মৃত্যু হলে যে পুলিশ দায়িত্বে থাকবেন তাকে সাসপেন্ড করব।
এদিকে অগ্নিমিত্রাকে ঘিরে শিল্পাঞ্চলের উচ্ছ্বাস কমার নাম নিচ্ছে না। এদিন সদ্য মন্ত্রীত্ব পাওয়া অগ্নিমিত্রা গিয়েছিলেন, রানিগঞ্জের বাঁশড়া এলাকায়। সেখানে তাঁকে ঘিরে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের প্রবল উৎসাহ দেখা যায়। কর্মীদের আনন্দের ভাগিদার হয়ে অগ্নিমিত্রাও পদ্ম হাতে নাচ করেন। তিনি বলেন, মন্ত্রী হয়ে কাজও করব আবার সাধারণ মানুষের আনন্দে ভাগিদার হয়ে নাচও করব।