নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলায় ভেঙে পড়া গোডাউনে ঢালাইয়ের জন্য শাটারিংয়ে ব্যবহৃত বাঁশগুলি ছিল অনেক পুরানো। তাছাড়া, ওই বাঁশকে কাঠের পাটাতনের উপর না রেখে সরাসরি মাটিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যে কারণে কংক্রিট, পাথর, বালির মিশ্রণ ঢালার পর ভার ধরে রাখতে পারেনি পুরানো বাঁশ। সেখান থেকে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গোটা ঢালাই। তদন্তে নেমে এই তথ্য এসেছে ‘সিট’-এর হাতে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে আরও একাধিক গাফিলতি সামনে আসছে।
ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, ঢালাইয়ের শাটারিংয়ের জন্য ব্যবহৃত বাঁশগুলি পুরানো শুধু নয়, কিছু বাঁশ ভিতর থেকে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। জোড়াতাপ্পি দেওয়া বাঁশও ছিল সেখানে। সোজা বাঁশের পরিবর্তে এবড়োখেবড়ো বাঁশ ব্যবহারের কারণেও শাটারিং সোজা ছিল না। ৯০ ডিগ্রি খাড়া করে শাটারিং না বসানোয় ভারধারণ ক্ষমতা কমে গিয়েছিল। সেই সঙ্গে বাঁশকে কোনো কিছুর উপর না রেখে সোজা মাটিতে বসিয়ে দেওয়ার কারণেও বিপদ বেড়েছে। তদন্তে আরও উঠে আসছে, ঢালাইয়ে ব্যবহৃত কাঠের তক্তাও ছিল অত্যন্ত নড়বড়ে। তক্তাগুলির মাঝে বড়ো বড়ো ফাঁক ছিল। সেগুলি আনা হয়েছিল একটি গোডাউন থেকে। ঢালাইয়ের রড বাঁধার পর তার উপরে রেখে দেওয়া হয় ভারী ভারী বিভিন্ন সামগ্রী। ফলে শাটারিংয়ে চাপ পড়ে। যে কারণে সিমেন্ট, বালি ও পাথরকুচির মিশ্রণ ঢালার সঙ্গে সঙ্গে তা ভেঙে পড়ে। তদন্তকারীদের দাবি, এই বিষয়গুলি জানতেন সংশ্লিষ্ট স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ও এলবিএস। তারপরেও তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ। ধৃতদের দাবি, গোটাটাই করা হয়েছিল নির্মাণের বরাত পাওয়া আসগরের নির্দেশে। এভাবেই আসগর অন্য সাইটগুলিতে নির্মাণ কাজ চালায় বলে জানা যাচ্ছে। কেউ কোনো প্রতিবাদ করলে তাঁকে আসগর মারধর পর্যন্ত করত বলে অভিযোগ। নির্মাণে ত্রুটি যে দুর্ঘটনার কারণ, তা মোটের উপর স্পষ্ট তদন্তকারীদের কাছে। তবে গোডাউন মালিক শম্ভুনাথ বেহেরা দাবি করেছে, আসগর তাঁকে জানিয়েছিল, নির্মাণ নিয়ে কোনো অভিযোগ এলে সে বুঝে নেবে। কারণ সে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ‘ঘরের ছেলে’। তবে ওই জমির মাটি পরীক্ষা আদৌ হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সন্দিহান তদন্তকারীরা। তাঁরা এই কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থার নাম পেয়েছে। সেটির আদৌ কোনো অস্তিত্ব আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার ওই গোডাউনের নকশার কপি লালবাজারকে পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা। কোথায় ত্রুটি, তা জানতে সেটি পাঠানো হয়েছে খড়্গপুর আইআইটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে।