Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অবসরপ্রাপ্ত পুলিস ইনসপেক্টরের ২৫ লক্ষ টাকার আয় বহির্ভূত সম্পত্তি!

অবসরপ্রাপ্ত পুলিস ইনসপেক্টরের ২৫ লক্ষ টাকার আয় বহির্ভূত সম্পত্তি!
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য পুলিসের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত ইনসপেক্টরের ২৫ লক্ষ টাকার আয় বর্হিভূত সম্পত্তি! বিপুল পরিমাণ নগদ জমা পড়েছে ব্যাঙ্কে। পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে একাধিক অ্যাকাউন্ট। মাত্র চার বছরেই তিনি এই বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন। রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার কাছে জমা পড়া এ সংক্রান্ত নথি দেখে আদালতও তাজ্জব হয়ে গিয়েছে। 
Advertisement
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য পুলিস থেকে অবসর নেওয়া ওই ইনসেপক্টর আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেট সহ বিভিন্ন জেলায় পোস্টিং ছিলেন। অভিযোগ, ওই সময় অপরাধীদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া সহ থানা এলাকায় নানা অবৈধ কাজকর্মের সুযোগ দিয়ে অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের রোজগার করেছেন তিনি। কিছু লোকের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা পেতেন বলেও অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিসের শীর্ষস্তরে অভিযোগ জমা পড়ার পর অনুসন্ধান শুরু হয়। দেখা যায়, অভিযোগের যথেষ্ট বাস্তবতা রয়েছে। এরপর দুর্নীতি দমন শাখা ওই অফিসারের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির মামলা রুজু করে।  তারা যাবতীয় নথি ব্যাঙ্কশাল আদালতে জমা দেয়। তার বিরুদ্ধে কী কী প্রমাণ মিলেছে, তাও উল্লেখ করেন তদন্তকারীরা।     
আদালতে জমা পড়া নথি থেকে জানা যাচ্ছে, ২০১৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত চারটি অর্থবর্ষে আয়-ব্যয় সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা হয়েছে। এই সময়কালে তিনি কত বেতন পেয়েছেন, কোথায় কত টাকা জমা করেছেন, কত টাকা আয়কর জমা দিয়েছেন, সব তথ্যই উল্লেখ রয়েছে সেখানে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এই চারটি আর্থিক বর্ষে বেতন বাবদ তিনি পেয়েছেন ৩০ লক্ষের কাছাকাছি টাকা। এর মধ্যে একাধিক অ্যাকাউন্টে নগদই জমা করেছেন প্রায় ১৯ লক্ষ। এছাড়া বেশ কয়েকটি সম্পত্তি কিনেছেন। এর বাইরে শেয়ার বাজার, মিউচুয়াল ফান্ড সহ বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ রয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ২৫ লক্ষের আয় বহির্ভূত সম্পত্তির হদিশ মিলছে। এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সূত্রের খবর। কারণ, বেনামে তাঁর আরও কিছু সম্পত্তি রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এমনকী পরিবারের নামে ব্যবসাও খুলেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই অবস্থায় আদালতের প্রশ্ন, বেতনের প্রায় পুরোটাই তিনি সঞ্চয় করলেন কীভাবে? তাঁর তো সংসার চালানোর খরচ এবং অন্যান্য ব্যয় রয়েছে। তাহলে এত টাকা জমানো কীভাবে সম্ভব হল? এখানেই এসে পড়ছে আয় বহির্ভূত সম্পত্তির প্রসঙ্গ। তদন্ত চলছে এখনও। এই বিপুল সম্পত্তির উৎস জানতে অবসরপ্রাপ্ত ওই পুলিস ইনসপেক্টরকে শীঘ্রই তলব করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ