Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালিহারা হাসপাতালে মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে কাজ করলেন নার্সরা, জেনারেটর থাকলেও বিদ্যুত্ বিভ্রাটে হাঁসফাঁস দশা

অন্ধকারে ডুবে রয়েছে স্বাস্থ্য কেন্দ্র। বেডে শুয়ে রোগীরা। অন্ধকারে গরমে ঘেমেনেয়ে একাকার রোগীরা। প্রসূতির পাশে সদ্যোজাত।

বালিহারা হাসপাতালে মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে কাজ করলেন নার্সরা, জেনারেটর থাকলেও বিদ্যুত্ বিভ্রাটে হাঁসফাঁস দশা
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: অন্ধকারে ডুবে রয়েছে স্বাস্থ্য কেন্দ্র। বেডে শুয়ে রোগীরা। অন্ধকারে গরমে ঘেমেনেয়ে একাকার রোগীরা। প্রসূতির পাশে সদ্যোজাত। পাশে সদ্যোজাত ও স্ত্রীকে পাখা দিয়ে হাওয়া করেন শিশুর বাবা। পাশের ঘরে মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে কাজ করছেন নার্সরা। শুক্রবার রাতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর ব্লকের বালিহারা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এমনই বেহাল ও করুণ দৃশ্য উঠে এল। এনিয়ে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (ভিডিও যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)। রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জেনারেটর থাকলেও তেল ছিল না। বিদ্যুত্ না থাকায় তিন ঘণ্টা ধরে অন্ধকারে ডুবে পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

Advertisement

স্থানীয়দের বক্তব্য, মাঝেমধ্যে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্র বিদ্যুত্হীন হয়ে থাকে। তখন অন্ধকারে থাকতে হয় রোগীদের। স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি, কিছুক্ষণের জন্য ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আলো ছিল না। এবিষয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস বলেন, ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২৫ কেবির জেনারেটর দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে তেলও দেওয়া হয়। হতে পারে ৫ -১০ মিনিটের জন্য বিদ্যুত্ ছিল না। বিদ্যুৎ না থাকার কারণটি খতিয়ে দেখছি। 
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, হরিরামপুর ব্লকের বালিহারা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১০টি বেড রয়েছে। অভিযোগ, শুক্রবার রাতে তিনঘণ্টা ধরে বিদ্যুত্হীন অবস্থায় ছিল হাসপাতাল। তীব্র গরমে সদ্যোজাতদের নিয়ে হাঁসফাঁস করতে থাকেন প্রসূতিরা। বহির্বিভাগ, লেবার রুমের সামনে অংশ অন্ধকারে ঢেকে থাকে। বিদ্যুত্ চলে যাওয়ার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কেন জেনারেটর চালু করা হয়নি, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বালিহারা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিক্যাল ইনচার্জ এম খানাম বলেন, কয়েক মিনিটের জন্য বিদ্যুত্ বিভ্রাট হয়েছিল। জেনারেটর চালু করার আগে কেউ একজন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঢুকে এই ভিডিও করেছে।
এবিষয়ে হরিরামপুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অনিরুদ্ধ চৌধুরী বলেন, কেউ একজন ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঢুকে বিদ্যুত্ চলে যাওয়ার ৫-১০ মিনিটের ফাঁকের মধ্যে বিনা অনুমতিতে ছবি তুলেছে। ফিমেল ওয়ার্ডেও ঢুকেছে। এনিয়ে একটি অভিযোগ এসেছে। আমরা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানিয়েছি। 
জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে ইতিমধ্যে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, মন্ত্রীর এলাকাতেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই হাল!  রাতে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুত্হীন অবস্থায় স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকে কী করে? এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র বলেন, সব জায়গাতেই উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় সব জায়গায় জেনারেটর হয়েছে। এরপরও কেন ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্র অন্ধকারে ঢেকে ছিল,  খোঁজ নিয়ে দেখব। কোনও খামতি থাকলে দ্রুত মেটানো হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ