এবার শিলিগুড়ি জংশন, অম্বিকানগর, জমি পুনরুদ্ধারে নোটিস রেলের
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই উচ্ছেদ আতঙ্কে নতুন করে অস্থিরতা ছড়াল শিলিগুড়িতে। একদিকে শিলিগুড়ি জংশন ও অম্বিকানগর এলাকায় রেলের উচ্ছেদ নোটিস ঘিরে উৎকণ্ঠা, অন্যদিকে মহাবীরস্থানের জোড়া রেলগেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় ক্ষোভ বাড়ছে, প্রতিবাদের সুরও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। 

Advertisement

শিলিগুড়ি জংশনে রেলের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন প্রায় ২০০ জন দোকানদার। তাঁদের অভিযোগ, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনের তরফে জারি করা উচ্ছেদ নোটিসে ১৫ দিনের মধ্যে দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেলের বক্তব্য, জমি দখলমুক্ত করতেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু, দোকানদারদের প্রশ্ন, বিকল্প জায়গা বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে তাঁদের কোথায় যেতে বলা হচ্ছে? 
নোটিসের সময়সীমা নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। ব্যবসায়ীদের দাবি, ১৪ সেপ্টেম্বর নোটিস জারি করা হয়েছিল। ১৫ দিনের সময়সীমা কীভাবে গণনা হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় তাঁরা দিশাহারা। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদে শামিল হন অনেকে। তাঁদের বক্তব্য, দোকান উঠে গেলে শুধু ব্যবসা নয়, অন্তত ২০০টি পরিবারের রুজি-রোজগারও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। রেলের উন্নয়নে আপত্তি না থাকলেও পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ তাঁরা মানবেন না। কাটিহারের ডিআরএমের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেও এদিন তাঁরা সফল হননি। 
এদিন অম্বিকানগরেও রেলের তেরফে উচ্ছেদ নোটিস দেওয়ায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এরই মধ্যে শহরের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র মহাবীরস্থানের জোড়া রেলগেট বন্ধের সম্ভাবনা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। রেলগেটের উপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, গেট বন্ধ হলে যাতায়াত ও ক্রেতাদের আসা-যাওয়ায় প্রভাব পড়বে। এদিকে, প্রতিবাদে নেমেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও। রেলগেট লাগোয়া এলাকায় বৃহস্পতিবার সিপিএমের পথসভা থেকে গেট খোলা রাখার দাবিতে সরব হন বাম নেতা-কর্মীরা। 
যদিও এ প্রসঙ্গে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ জানান, রেলগেট বন্ধের সম্ভানার বিষয়টি তাঁর কানে এসেছে। এখনও রেলের তরফে কোনো নোটিস দেওয়া হয়নি। তবে রেল বোর্ডের নীতি অনুযায়ী উড়ালপুল ও আন্ডারপাসের ব্যবস্থা করে এ ধরনের গেট বন্ধের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য জানার পর তিনি জেলাশাসককে রেলের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান। 
দুই ক্ষেত্রেই এখন মূল প্রশ্ন, উন্নয়নের পরিকল্পনার মধ্যে জীবিকা ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ কতটা গুরুত্ব পাবে। প্রশাসনিক আলোচনা আদৌ সমাধানের পথ খুলবে, নাকি আন্দোলন আরও তীব্র হবে, সেদিকেই তাকিয়ে শিলিগুড়ি। রেল অবশ্য আগেই জানিয়েছে, জবরদখল হয়ে থাকা জমি পুনরুদ্ধারে নোটিস দিয়েই অভিযানে যাওয়া হচ্ছে।