রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: এবার থেকে সারাবছর খাদান মালিকরা বালি মজুত করতে পারবেন। সম্প্রতি রাজ্যের তরফে এব্যাপারে জেলায় জেলায় নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। এতদিন শুধুমাত্র বর্ষার মরশুমে বিক্রির জন্য ঘাট মালিকরা বালি মজুত করতে পারতেন। এবার আর সেই বিধিনিষেধ রইল না। সারাবছর আবাস যোজনার উপভোক্তারা যাতে চাহিদামতো বালি পান, তারজন্যই সরকারের এই নির্দেশ বলে আধিকারিকরা মনে করছেন।
বাঁকুড়া জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বছরভর বালি মজুতের ব্যাপারে রাজ্যের নির্দেশিকা পেয়েছি। আমরা বিষয়টি ঘাট মালিকদের জানিয়ে দিচ্ছি। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো খাদান মালিক এবিষয়ে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেননি।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের তরফে আবাসের উপভোক্তাদের জন্য দেড় হাজার টাকা প্রতি ট্রাক্টর হিসাবে বালির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই দামে উপভোক্তাদের বালি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। খাদান মালিকরা কোনো কারণে তা দিতে অস্বীকার করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে বলে আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
গত কয়েকমাসে বাঁকুড়ায় বালির জোগান অনেকটাই কমে গিয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর বিভিন্ন কারণে বৈধ বালি খাদানগুলির একাংশ বন্ধ ছিল। পরে বর্ষা নেমে যাওয়ায় প্রশাসন বালিঘাট বন্ধ করে দেয়। ফলে অন্যান্যদের মতো আবাসের উপভোক্তারাও বালির অভাবে ভোগান্তির শিকার হন। কেউ কেউ চড়া দামে বালি কিনতে বাধ্য হন। প্রশাসনের তরফে নির্ধারিত দামে বালি বিক্রি শুরু হয়। বর্ষায় দামোদর নদে ড্রেজিংয়ের অনুমতি মিলেছিল। মেজিয়া, বড়জোড়া ব্লক এলাকায় ড্রেজিং চালানোর সময় প্রচুর বালি ওঠে। ওই বালি প্রশাসন ও পুলিশের আধিকারিকরা দাঁড়িয়ে থেকে আবাসের উপভোক্তাদের বিক্রির ব্যবস্থা করেন।
জেলা ভূমিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষার আগে বালি কারবারিরা খাদান থেকে অতিরিক্ত বালি উত্তোলন করেন। তাঁরা সরাসরি ট্রাক, ডাম্পারে বালি বিক্রি করেন। বাকি বালি নদনদীর পাড়ে নির্দিষ্ট জায়গায় মজুত করা হয়। সেই বালি জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। ওইসময় মুনাফার জন্য খাদানমালিকরা বাইরে বালি পাঠিয়ে দেন। তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দা তথা আবাসের উপভোক্তাদের দিকে ফিরেও তাকান না বলে অভিযোগ। তবে গত বর্ষার মরশুমে প্রশাসন সক্রিয় থাকায় খাদান মালিকরা ওই কাজ করতে পারেননি। তাঁরা আবাসের উপভোক্তাদের সুলভে বালি বিক্রি করেছেন। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, অনেক সময় আবাসের উপভোক্তাদের বালির ঘাটতির অজুহাত দেওয়া হয়। অথচ খাদান থেকে উত্তোলনের পর সরাসরি বড়ো বড়ো যানবাহনে বালি লোড করে কলকাতা সহ অন্যত্র পাঠানো হয়। এবার থেকে সারাবছর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় বালি মজুত থাকবে। ফলে কেউ বালির ঘাটতির ব্যাপারে অজুহাত দিতে পারবে না।



