Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মৌসুমি বায়ু নয়, স্থানীয় বজ্রগর্ভ মেঘেই কামাল, জুন মাসের বৃষ্টিতে ‘ফার্স্ট বয়’ কলকাতা

কলকাতায় জুন মাসে ৩৬৪.৬ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা গড়ের থেকে ২৯% বেশি। বজ্রগর্ভ মেঘের প্রভাবে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

মৌসুমি বায়ু নয়, স্থানীয় বজ্রগর্ভ মেঘেই কামাল, জুন মাসের বৃষ্টিতে ‘ফার্স্ট বয়’ কলকাতা
  • ১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্ষার প্রথম মাস জুন। এই মাসে দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সবথেকে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে কলকাতায়। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩০ জুন সকাল পর্যন্ত কলকাতায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৬৪.৬ মিলিমিটার (মিমি)। জুন মাসে কলকাতায় বৃষ্টিপাতের যে দীর্ঘকালীন গড়, এই পরিমাণ তার চেয়ে ২৯ শতাংশ বেশি। জুন মাসে কলকাতায় গড় বৃষ্টিপাত ২৭৬.৭ মিমি ধরা হয়। দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাতের পরিমাণের নিরিখে কলকাতার পরেই রয়েছে হাওড়া। এখানে মোট ৩০৪ মিমি (গড়ের থেকে ৩৪ শতাংশ বেশি) বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, জুন মাসে দক্ষিণবঙ্গে শুধু কলকাতা ও হাওড়ায় আবহাওয়াগত বিচারে অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে। 

Advertisement

দীর্ঘকালীন গড়ের তুলনায় ২০ থেকে ৫৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হলে ‘অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত’ বলে ধরা হয়। এই গড়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম বা বেশি বৃষ্টি হলে আবহাওয়াগতভাবে তা স্বাভাবিক। এই মাপকাঠি অনুযায়ী উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিক পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘকালীন গড়ের তুলনায় বৃষ্টিপাত ২০ শতাংশ কম হলেই আবহাওয়াগতভাবে ঘাটতি ধরা হয়। দক্ষিণবঙ্গের ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ রয়েছে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি। উত্তরবঙ্গে দুই দিনাজপুর, মালদহ জেলায়ও বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। 
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, কলকাতা ও লাগোয়া হাওড়া জেলায় বেশি বৃষ্টি হওয়ার কারণ, জুন মাসে এই অঞ্চলে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টির প্রবণতা বেশি ছিল। কোনো কোনো দিন খুব বেশি বৃষ্টি হয়েছে কলকাতায়। জুন মাসে গোটা দক্ষিণবঙ্গজুড়ে বর্ষার পরিচিত বৃষ্টি সেভাবে হয়নি। কারণ, এই অংশে মৌসুমি বায়ু তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় ছিল। বঙ্গোপসাগরে জুন মাসে কোনো নিম্নচাপও তৈরি হয়নি। এরকম পরিস্থিতিতে মূলত বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়। তিনি আরও জানান, কলকাতায় বৃষ্টির পরিমাণের যে হিসাব দেওয়া হয়, তা আলিপুর আবহাওয়া অফিস চত্বরের পরিসংখ্যান। শহরের অন্যান্য অংশে এর থেকে কিছু বেশি বা কিছু কম বৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া, বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বৃষ্টি হলে কম জায়গার মধ্যে বৃষ্টির পরিমাণে পার্থক্য থাকার সম্ভাবনা আরও বেশি হয়। 
আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ড বলছে, ২০১৮ সালের জুন মাসে কলকাতায় সবথেকে বেশি ৪১৯.৭ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল। জুনে একদিনে সবথেকে বেশি বৃষ্টির রেকর্ড আছে ১৯০৮ সালের ৮ তারিখে (৩০৩.৫ মিমি)। আবার ২০১৬ সালের জুনে মাত্র ১৩১.৩ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল কলকাতায়। প্রসঙ্গত, এবার বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বেশি বৃষ্টি হওয়ার কারণে বজ্রপাতের ঘটনাও বেড়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকলে অর্থাৎ বর্ষার স্বাভাবিক বৃষ্টি হলে বজ্রপাত কম হয়। এবার এল-নিনোর প্রভাবে সারা দেশেই মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি ও সক্রিয়তা কিছুটা কম। তাই বজ্রগর্ভ মেঘ এবং বজ্রপাত বেশি হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ