Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভাড়ায় বহিরাগত নয়, ভবানীপুরের জনতায় ভাসলেন অগ্নিকন্যা

মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির গলির মুখে ভিড় জমতে শুরু করেছিল সকাল ৯টা থেকেই। তখন রাস্তার মাঝখানে ব্যারিকেড দিতে ব্যস্ত ছিল পুলিশ। গাড়িঘোড়া চলছিল।

ভাড়ায় বহিরাগত নয়, ভবানীপুরের জনতায় ভাসলেন অগ্নিকন্যা
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির গলির মুখে ভিড় জমতে শুরু করেছিল সকাল ৯টা থেকেই। তখন রাস্তার মাঝখানে ব্যারিকেড দিতে ব্যস্ত ছিল পুলিশ। গাড়িঘোড়া চলছিল। ঘড়ির কাঁটা ১০টা ছুঁতে না ছুঁতেই গোটা চত্বরের ছবিটা বদলে গেল! কালীঘাট ব্রিজ ধরে গোপালনগর—রাস্তার দু’পাশে সারি সারি মানুষ। সবার নজর একদিকে—যেদিক দিয়ে আসবেন তাঁদের প্রিয় নেত্রী তথা ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর প্রতি মিনিটে বেড়েছে জনসমাগম। সেই ভিড়ে কে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক, কে আম জনতা, ঠাহর করাও মুশকিল। তবে তাঁরা যে ভাড়া করে আনা ‘বহিরাগত’ নয়, সবাই ভবানীপুর এলাকারই, নিশ্চিত করলেন এলাকার ব্যবসায়ী থেকে স্থানীয় বাসিন্দারাই। 

Advertisement

কয়েকদিন আগে ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন ঘিরে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল কালীঘাট চত্বরে। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে জমকালো রোড শো আয়োজন করেছিল বিজেপি। ওই কর্মসূচি ভরাতে বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে করে লোক আনা হয়েছিল। সেই রোড শোতে জাঁকজমকের অভাব না থাকলেও ‘প্রাণ’ ছিল না বলে মনে হয়েছিল স্থানীয় দোকানদারদের। আর এদিন মমতার মনোনয়নপত্র দাখিল নিয়ে সেই ব্যবসায়ীরাই বলছেন, ‘এলাকার মুড দেখলে বুঝতে পারবেন, কতটা স্বতঃস্ফূর্ত। সব তো এখানকারই লোক।’ 
ঠিক ১০টা বেজে ৪০ মিনিটে বাড়ি থেকে বেরন মমতা। পাড়ার প্রবীণদের আশীর্বাদ নিতে নিতে এগিয়ে যান। হেঁটে কালীঘাট ব্রিজের মুখে পৌঁছান তিনি। ততক্ষণে স্লোগান, শঙ্খ-উলুধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। মমতাকে দেখে সেই ভিড়ের বাঁধ যেন এক ঝটকায় ভেঙে গেল! জনস্রোতে ভেসে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন পেশ করতে এগিয়ে চললেন বাংলার অগ্নিকন্যা। কখনও শোনা গেল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। কখনও ‘যতই কর হামলা, আবার জিতবে বাংলা’। ভবানীপুরের হিন্দীভাষী ভোটাররা স্লোগান তুললেন, ‘আধা রোটি তাওয়া মে, মোদি গয়া হাওয়া মে।’ কালীঘাট ব্রিজে ওঠার আগে মা বগলামুখীর মন্দিরে প্রণাম করে তৃণমূল সুপ্রিমো ফের হাঁটতে শুরু করেন। সঙ্গে ফিরহাদ হাকিম ও তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম, কাউন্সিলার তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীম বসু, বাবলু সিং প্রমুখ।  
আম্বেদকর কলোনির মুখে একবার থমকান মমতা। দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। গোপালনগরেও তিল ধারণের জায়গা ছিল না। মনোনয়ন পর্ব মিটিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘ছোটোবেলা থেকে এখানেই আমি মানুষ। ভবানীপুরের মানুষকে স্যালুট জানাই।’ ফের হেঁটেই বাড়িমুখো হন তিনি। ফিরতি পথেও তাঁর সঙ্গী ছিল থিকথিকে ভিড়। যে ভিড় তাঁর খুব চেনা! কলেজ পড়ুয়া থেকে বাচ্চাকে স্কুল থেকে নিয়ে আসা মা, মমতাকে কাছে থেকে এক ঝলক দেখার জন্য থমকেছেন সবাই। নেত্রী যখন বাড়ি পৌঁছালেন, তখন প্রায় সাড়ে ১১টা বাজে। ঘরে ঢোকার আগে কালীঘাট মন্দিরের দিকে মুখ করে কপালে হাত ঠেকান মমতা। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে যান হুগলির উদ্দেশে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ