Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

নয়ডা শ্রমিক বিক্ষোভ: তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তার বি-টেক ইঞ্জিনিয়ার, অশান্তির ‘মাস্টারমাইন্ড’!

শ্রমিক বিক্ষোভে কয়েকদিন আগে উত্তাল হয়ে উঠেছিল উত্তরপ্রদেশের নয়ডা। ন্যূনতম মজুরির বৃদ্ধিতে রাস্তায় নেমেছিলেন হাজার হাজার শ্রমিক।

নয়ডা শ্রমিক বিক্ষোভ: তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তার বি-টেক ইঞ্জিনিয়ার, অশান্তির ‘মাস্টারমাইন্ড’!
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়ডা: শ্রমিক বিক্ষোভে কয়েকদিন আগে উত্তাল হয়ে উঠেছিল উত্তরপ্রদেশের নয়ডা। ন্যূনতম মজুরির বৃদ্ধিতে রাস্তায় নেমেছিলেন হাজার হাজার শ্রমিক। এই ঘটনা চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারকে। চাপের মুখে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা হয়েছে। সেইসঙ্গে বিক্ষোভের ‘প্ররোচনাকারী’দের ধরপাকড়ও শুরু হয়েছে। এরমধ্যে তামিলনাড়ু থেকে আদিত্য আনন্দ নামে এক বিটেক ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করল যোগী রাজ্যের পুলিশ। পুলিশসূত্রে ধৃতকে বিক্ষোভ ও অশান্তি ছড়ানোর ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে দাবি করা হয়েছে। 

Advertisement

তিরুচিরাপল্লি স্টেশন থেকে আদিত্যকে গ্রেপ্তার করে উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগর থানার পুলিশ এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। ঘটনার পর আদিত্যর নামে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে স্থানীয় আদালত। আদিত্যকে ধরিয়ে দিতে পারলে এক লক্ষ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। পুলিশের দাবি, বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের সময় আদিত্য হিংসামূলক কার্যকলাপের জন্য তাঁদের ক্রমাগত উসকানি দেন। তার ফলেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। চলে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ। আদিত্যকে খুঁজতে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন রাজ্যে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তামিলনাড়ুতে আদিত্যর খোঁজ মেলে। তাঁকে উত্তরপ্রদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্মে জড়িত থাকার কথা আদিত্য স্বীকার করেছেন। 
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ যাতে হিংসাত্মক হয়ে ওঠে, তার জন্য উসকানি দিয়েছিলেন। হিংসার পিছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানতে আদিত্যর ফোনও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ধৃত আদতে হাজারিবাগের বাসিন্দা। এনআইটি জামশেদপুর থেকে বি টেক করেন তিনি। ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে নয়ডার একটি সংস্থায় চাকরি পান তিনি। এরপর তিনি গুরুগ্রামে বসবাস করতেন। গত বছরের জুন থেকে নয়ডাতেই থাকতে শুরু করেন। শ্রমিক বিক্ষোভের সময় সেক্টর ৩৭ এর একটি ভাড়া বাড়িতে ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২২ সালেই শ্রমিক অধিকার রক্ষার সঙ্গে যুক্ত সংগঠন ‘মজদুর বিগুল’-এর সঙ্গে যুক্ত হন আদিত্য। এরপর নয়ডার শ্রমিকদের দুরবস্থার কথা নথিবদ্ধ করার কাজ শুরু করেন। ২০২৩ সালে নয়ডা কাণ্ডের অপর অভিযুক্ত রূপেশ রায়ের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। রূপেশ ও মনীষা চৌহান নামে আরও দুজনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন আদিত্য।  একাধিক বামপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগ ছিল তাঁর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ