সংবাদদাতা, কাঁথি: নতুন রাজ্য সরকারের বাজেটে পূর্ব মেদিনীপুরের মৎস্যজীবীদের জন্য কিছুই নেই। ফলে মৎস্যজীবীরা কার্যত হতাশ। তাঁদের দাবি, ২০২৪ সালে তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্য বাজেটে ‘সমুদ্রসাথী’ প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা হয়েছিল। কিন্তু দু’বছর পেরিয়ে গেলেও একটি টাকাও পাননি মৎস্যজীবীরা। এবার বাজেটে এনিয়ে কোনো উল্লেখ নেই।
প্রসঙ্গত, পূর্ব মেদিনীপুর তথা কাঁথির একটি বড়ো অংশের মানুষের জীবন-জীবিকা সমুদ্রে মাছ ধরার উপরই নির্ভরশীল। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষ মৎস্যক্ষেত্রে জীবিকা নির্বাহ করেন। পেটুয়াঘাট, শঙ্করপুরে পূর্ণাঙ্গ মৎস্যবন্দর ও শৌলায় ছোটো মৎস্যবন্দর রয়েছে। দীঘায় রয়েছে রাজ্যের সবচেয়ে বড়ো মাছ নিলামকেন্দ্র। দীঘা থেকে খেজুরি পর্যন্ত ৪২টি মৎস্যখটি রয়েছে। ট্রলার-লঞ্চ ছাড়াও নৌকা ও টু-সিলিন্ডার বোটে মাছ ধরে বহু ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জীবিকা নির্বাহ করেন। সব মিলিয়ে জেলার উপকূলের মানুষের বেঁচে থাকার সোপান এবং রসদ হল দীঘার সমুদ্র ও তা থেকে আহরিত মৎস্যসম্পদ। এদিকে ২০২৪ সালে ঢাক ঢোল বাজিয়ে সমুদ্রসাথী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিল। বলা হয়েছিল, ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত দু’মাস ব্যান পিরিয়ডের সময় পাঁচ হাজার টাকা করে ১০ হাজার টাকা করে পাবেন মৎস্যজীবীরা। পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগণা ও হাওড়া জেলার কয়েক লাখ মৎস্যজীবী এই প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এক টাকাও পাননি।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবার মৎস্যজীবীরা ভেবেছিলেন, সমুদ্রসাথীর নাম বদল করে কিংবা অন্য কোনোভাবে ব্যান পিরিয়ডের সুবিধা দেওয়ার প্রকল্প বাজেটে ঘোষণা করা হবে। পূর্ব মেদিনীপুর মৎস্যজীবী ফোরামের সম্পাদক দেবাশিস শ্যামল বলেন, গত ১৫ বছরের পূর্বতন সরকারের আমলে মৎস্যজীবীরা অবহেলিত ছিলেন। উপকূলের মৎস্যখটিগুলিতে নানা পরিকাঠামো বেহাল। এবার আমরা ভেবেছিলাম, বাজেটে মৎস্যজীবীদের জন্য কিছু প্রকল্প থাকবে। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হতাশ ও অবাক। সমুদ্রসাথী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ আগামীদিনে কী হবে, তা নিয়েও রয়েছে সন্দেহ। রামনগর বিধানসভার মধ্যে দীঘা মৎস্য নিলাম কেন্দ্র, শঙ্করপুর মৎস্যবন্দর সহ বেশ কয়েকটি মৎস্যখটি রয়েছে। প্রচুর মানুষ এই সব ক্ষেত্রে যুক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। সেখানকার বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, বাজেটে রাজ্য সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা প্রকল্প ঘোষণা করেছে। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আগামীদিনে মৎস্যজীবীদের জন্যও নিশ্চয়ই প্রকল্প ঘোষণা করবে সরকার।