Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্কুলে কমপিউটার শিক্ষকের চাকরি করেও মেলেনি বেতন, প্রতারণার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইনে ফোনের পর মামলা

স্কুলে কমপিউটার শিক্ষকের চাকরির নামে আর্থিক প্রতারণার শিকার হওয়া কোতুলপুরের এক যুবক প্রতিকার চেয়ে আগের সরকারের জমানায় আট বছর ধরে নেতা, মন্ত্রীর দরবারে ঘুরেছেন।

স্কুলে কমপিউটার শিক্ষকের চাকরি করেও মেলেনি বেতন, প্রতারণার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইনে ফোনের পর মামলা
  • ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: স্কুলে কমপিউটার শিক্ষকের চাকরির নামে আর্থিক প্রতারণার শিকার হওয়া কোতুলপুরের এক যুবক প্রতিকার চেয়ে আগের সরকারের জমানায় আট বছর ধরে নেতা, মন্ত্রীর দরবারে ঘুরেছেন। কিন্তু সুরাহা হয়নি। নতুন সরকারের ‘মুখ্যমন্ত্রী হেল্প লাইনে’ ফোন করতেই পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। এতে খুশি অভিযোকারী যুবক। তাঁর অভিযোগ, ৭৫ হাজার টাকা সেলামির বিনিময়ে কোতুলপুরের একটি হাইস্কুলে কমপিউটার শিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ১ বছর ক্লাস করিয়েও ১ টাকাও বেতন দেওয়া হয়নি। তখনই প্রতারিত হয়েছেন বুঝে তৃণমূল জমানায় নেতা ও মন্ত্রীর কাছে ঘুরেও  লাভ হয়নি। সম্প্রতি দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী হেল্প লাইন নম্বর চালু হতেই তিনি সেখানে ফোন করে প্রতারণার বিষয়টি জানান। এরপরেই থানা থেকে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। সেইমতো অভিযোগ গ্রহণ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। 

Advertisement

কোতুলপুর থানা এলাকার বাসিন্দা অভিযোগকারী ওই যুবক বলেন, ২০১৮ সালে বেকার ছিলাম। স্থানীয় এক ব্যক্তি স্কুলে আমার কমপিউটার শিক্ষকের চাকরির জন্য বাবাকে প্রস্তাব দেন। তাতে রাজি হওয়ায় ওই ব্যক্তি আমাকে বড়জোড়ায় একটি সংস্থার অফিসে নিয়ে যান। সেখানে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে স্কুলে কমপিউটার শিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত করার কথা বলা হয়। বিনিময়ে ৭৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় আমার থেকে। সেইসঙ্গে বলা হয় যে কোতুলপুর ব্লকের কোনো স্কুলে কমপিউটার শিক্ষক নেই, সেটা খোঁজ নিয়ে জানাতে বলা হয়। সেই মতো মির্জাপুর স্কুলের খোঁজ পাই। এরপর ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি নিয়ে সেখানে আমাকে নিযুক্ত করা হয়। একটি অচল কমপিউটার পাঠানো হয়। তা দিয়েই ১ বছর ধরে পড়ুয়াদের নিয়মিত কমপিউটার শিক্ষা দিই। আমার মতো অনেক বেকার যুবক, যুবতীকে একইভাবে বিভিন্ন স্কুলে কমপিউটার শিক্ষকের নামে আর্থিক প্রতারণা করা হয়েছে। 
প্রতারিত যুবকের আরও দাবি, আমাকে বলা হয়েছিল আপাতত ৬ মাস কম বেতনে কাজ করতে হবে।  তারপর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের মাধ্যমে চাকরি পাকা হবে। কিন্তু ১ বছর কেটে গেলেও ১টি টাকাও বেতন দেওয়া হয়নি। তখনই প্রতারিত হয়েছি বুঝে স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিই। সেইসঙ্গে অভিযুক্তকে দেওয়া ৭৫ হাজার টাকা ফেরত চাইলেও তা পাইনি। তাই প্রতিকার চেয়ে এলাকার বিধায়ক তথা তৎকালীন রাজ্যের মন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু সুরহা পাইনি। বর্তমান সরকার কিছুদিন আগে দুর্নীতি দমনের জন্য একটি হেল্প লাইন চালু করেছে। তাই ওই নম্বরে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানাই। এরপরেই থানা থেকে আমাকে ডেকে পাঠানো হয়। থানায় আমার অভিযোগ গ্রহণ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। এতে আমি খুশি।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ