নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার মধ্যেই খানিকটা স্বস্তির পরিসংখ্যান উত্তর ২৪ পরগনায়। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ৩৪ সপ্তাহের পরিসংখ্যান অনুসারে, জেলায় ৬৩ হাজার ৮৯৪ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা হয়েছে। পজিটিভ ৩১১ জন। গত বছর একই সময়ে শহর ও গ্রামীণ এলাকা মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯৫৫। এবার তা নেমে হয়েছে ৩১১। ডেঙ্গু পজিটিভিটির হারও ০.১৮ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যানে আত্মতুষ্ট না হয়ে আগামী দু’মাস নজরদারি আরও বৃদ্ধি করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
বর্ষা শুরু হলেই উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার মরশুমের শুরু থেকে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। ভিসিটি টিমের নিয়মিত নজরদারি, বিভিন্ন এলাকায় সমীক্ষা, জমা জল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া, আশা কর্মী সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ– এমন একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। শুধু মাঠ পর্যায়ের নজরদারি নয়, ডেঙ্গু দ্রুত শনাক্ত করার পরীক্ষার পরিকাঠামোও বৃদ্ধি করা হয়েছে। জেলায় সাতটি স্টেট জেনারেল হাসপাতাল এবং তিনটি মহকুমা হাসপাতালে এই মেশিন রয়েছে। ১২টি ব্লক হাসপাতালের মধ্যে ছ’টিতেও অ্যালাইজা পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে নেই, সেখানকার সন্দেহভাজন রোগীদের পার্শ্ববর্তী হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত করে দ্রুত পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
এই পরিসংখ্যানেও প্রস্তুতির প্রতিফলন মিলছে। গত বছর ৩৪ সপ্তাহে উত্তর ২৪ পরগনার ১২টি গ্রামীণ ব্লকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪০৫। চলতি বছরে সেই সংখ্যা ১০৩। শহরাঞ্চলে গত বছর আক্রান্ত ছিলেন ৫৫০ জন, এবার ২০৮। দুই ক্ষেত্রেই আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। শহরাঞ্চলে এবার আক্রান্তের সংখ্যায় এগিয়ে বিধাননগর পুরনিগম, সেখানে আক্রান্ত ৩৯ জন। কামারহাটিতে ২৬ জন। গ্রামীণ দেগঙ্গা ও হাবড়া ২ ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ জন করে। বারাসত ১ ব্লকে আক্রান্ত ১৩ জন। আমডাঙা এবং বাগদায় আক্রান্তের সংখ্যা আপাতত একজন করে।
তবে, স্বস্তির পরিসংখ্যানের মধ্যেও আগামী দু’মাস নিয়ে সতর্ক স্বাস্থ্যবিভাগ। কারণ সামনে পুজোর মরশুম। তাই আগামী দিনগুলিতে মাঠ পর্যায়ের কাজের গতি আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। এনিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সমুদ্র সেনগুপ্ত বলেন, মরশুমের শুরু থেকেই নিয়মিত নজরদারি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী দু’মাস আমাদের নজরদারি আরও জোরদার থাকবে। বাড়ি ও আশপাশে জল জমতে দেওয়া চলবে না। জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।