


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ভ্যাকসিনে কোনও গোলমাল নেই। দুধ শ্বাসনালিতে আটকে শ্বাস নিতে না পারার কারণেই মৃত্যু হয় শিশুটির। লাটাগুড়ির ৫৪ দিনের শিশুমৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের পর এমনটাই দাবি জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের।
সোমবার জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদার বলেন, ভ্যাকসিনে গোলমাল ছিল না। অ্যাসপেক্সিয়ার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার কথা। ওই রিপোর্ট পেলে সবটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাঁর দাবি, শ্বাসনালিতে দুধ আটকে গিয়ে অ্যাসপেক্সিয়া (দম বন্ধ) হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
মৃত ওই শিশুটির মা কবিতা অধিকারীও জানিয়েছিলেন, ঘটনার দিন রাত এগারোটা নাগাদ তিনি শিশুটিকে দুধ খাওয়ান। তারপরই শিশুটি জোরে হাঁচি দেয়। সেই হাঁচির সঙ্গে কফ ও রক্ত বেরিয়ে আসে। তারপরই ঝিমিয়ে পড়ে সে। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে লাটাগুড়ি মহাকাল মোড় থেকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে নিয়ে আসা হয় তাকে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনাচক্রে যেদিন রাতে শিশুটির মৃত্যু হয়, সেদিনই তাকে লাটাগুড়ির ক্রান্তি মোড়ে উত্তর মাটিয়ালি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। দেড় মাসের আর পাঁচটা শিশুকে যে তিনটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়ে থাকে, এক্ষেত্রেও তাই দেওয়া হয়েছিল। ভ্যাকসিন দেওয়ার পর রাতে শিশুটির মৃত্যু হওয়ায় পরিবারের তরফে অভিযোগ তোলা হয়, ভ্যাকসিনে কোনও গোলমাল রয়েছে। সেকারণেই মারা গিয়েছে তাদের সন্তান। যদিও স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে প্রথমে যে দাবি করা হয়েছিল, তাতেই অটুট থেকে এদিন ক্রান্তির ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক দীপঙ্কর কর বলেন, একই ব্যাচের ভ্যাকসিন আরও অনেক শিশুকে দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কারও মধ্যে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
এদিকে, শিশু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, ভাঙচুরের পর থেকে বন্ধ ছিল লাটাগুড়ির ক্রান্তি মোড়ের উত্তর মাটিয়ালি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এদিন অবশ্য পুলিস পাহারায় ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি খোলা হয়। সেখান থেকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার কাজও চলে। কিন্তু নতুন করে হামলার আশঙ্কায় ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ঘটনার জেরে যেহেতু স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে, স্বাভাবিকভাবেই ওখানকার মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে যাতে পুলিস প্রহরা দেওয়া হয়, সে ব্যাপারে আবেদন জানানো হয়েছে। এদিন পুলিসের উপস্থিতিতেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা হয়। ঘটনার পর থেকে কয়েকটা দিন স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা না যাওয়ায় চিকিৎসা পরিষেবা কিছুটা যে ব্যাহত হয়েছে তা স্বীকার করে নিয়ে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা থাকলে আরও বেশি মানুষ পরিষেবা পেতেন।
জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে এদিন রিভিউ বৈঠক করেন জেলাশাসক শমা পারভীন। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি লাটাগুড়ির শিশুমৃত্যুর প্রসঙ্গটিও ওঠে। তবে কোনওভাবেই যাতে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ ব্যাহত না হয়, তা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের বিশেষভাবে দেখার নির্দেশ দেন জেলাশাসক।