


নয়াদিল্লি: ৯০তম জন্মদিনের আগেই উত্তরসূরি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিলেন তিব্বতি ধর্মগুরু দলাই লামা। বলেছিলেন, প্রচলিত প্রথা মেনেই তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচন হবে। সেই অধিকার থাকবে তাঁদের সংস্থা গাদেন ফোদরাং ট্রাস্টের হাতেই। দলাই লামার ঘোষণার পরই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল চীন। তাদের আপত্তি নিয়ে এবার নাম না করেই জবাব দিল ভারত। তিব্বতি ধর্মগুরু নির্বাচনে জি জিনপিং সরকারের নাক গলানোর বিষয়টি যে ভালো চোখে দেখা হচ্ছে না, সেকথাই ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার সংখ্যালঘু বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, পরবর্তী দলাই লামা নির্বাচনের অধিকার রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং বর্তমান দলাই লামার হাতেই। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রিজিজু জানান, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেন দলাই লামা। তাঁর অনুগামীরা চাইছেন, দলাই লামার ইচ্ছানুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংস্থাই উত্তরসূরি বেছে নিক। এর বাইরে অন্য কারও এই প্রক্রিয়ায় নাক গলানোর অধিকার নেই।
জানা গিয়েছে, আগামী ৬ জুলাই ধর্মশালায় তিব্বতী ধর্মগুরুর ৯০তম জন্মদিন উদযাপন করা হবে। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রিজিজু ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। থাকবেন আর এক মন্ত্রী রাজীব রঞ্জনও। প্রসঙ্গত, জন্মদিনের দিন কয়েক আগে বুধবার উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে ফের নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন দলাই লামা। জানিয়েছিলেন, ৬০০ বছরের প্রথা ও ঐতিহ্য মেনেই আমাদের সংস্থার কাজকর্ম অব্যাহত থাকবে। উত্তরসূরি নির্বাচনের অধিকার থাকবে শুধুমাত্র গাদেন ফোদরাং ট্রাস্টের হাতেই। অন্য কেউ নাক গলাতে পারবে না। তাঁর এই বার্তার পরই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বেজিং। বারবারই এই নিয়ে আপত্তি তুলেছে তারা। বুধবার হুঁশিয়ারির সুরে বেজিং পাল্টা জানিয়েছে, দলাই লামার উত্তরসূরি নির্বাচনে চীন সরকারের অনুমোদন আবশ্যক। যদিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিব্বতি ধর্মগুরুর পাশে দাঁড়িয়ে সেই মন্তব্যের বিরোধিতা করল ভারত।