নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গকে আর কেউ বিশ্বাস করতে চায় না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এটাই অন্যতম অন্তরায়। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে এমনই আক্ষেপের কথা শোনালেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রাজ্যের পূর্বতন সরকারগুলির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সিঙ্গুর ইস্যু যেমন এরাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে, তেমনই শিল্পের জন্য ঘোষিত ইনসেন্টিভ চুপিসারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন পশ্চিমবঙ্গে যদি বিনিয়োগের কথা কাউকে বলা হয়, তারা প্রশ্ন করে, এখানে সরকারের
কথার কোনো দাম আছে কি? রাজ্য সরকারের গ্রহণযোগ্যতাই এখন সবচেয়ে বড়ো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনে করেন অর্থমন্ত্রী।
এরই পাশাপাশি রাজ্যের কর্মসংস্কৃতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর কথায়, এখানে ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সমাজের অন্যান্য স্তরের পাশাপাশি এখানকার আমলাদের একাংশও তেমন একটা ঝুঁকি নিতে চান না। গুজরাত বা মহারাষ্ট্রে আমলারা যেমন অতিদ্রুত কাজ করেন, এখানে তেমন নয়। পশ্চিম ভারত অতিদ্রুত গতিতে এগিয়ে গেলেও পশ্চিমবঙ্গ এখনো ‘তৃতীয় বিশ্বের’ রাজ্যই রয়ে গিয়েছে! অভিমত তাঁর।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি গত তিনমাসে দেশের নানা প্রান্তে ঘুরেছি। সবাই বাঙালিদের সন্দেহ করে। দেশের পাশাপাশি বিদেশেরও বড়ো বড়ো প্রযুক্তি সংস্থার মাথায় বসে আছেন বাঙালিরা। পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের কথায় তাঁরাও পিছিয়ে আসেন। কারণ ওই কৃতী বঙ্গসন্তানরাও এই রাজ্যকে বিশ্বাস করেন না। এখানে উচ্চশিক্ষায় যথেষ্ট ঘাটতি আছে বলেও মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারেনি। মেধা বলতে এখন মানুষ আইআইটি বম্বে বা মাদ্রাজকেই বোঝে। আমরা জ্ঞানভিত্তিক পরিকাঠামোর কথা মুখে বলছি। কিন্তু বড়ো সংস্থাগুলি ভালো কর্মী পাচ্ছে না।
এরাজ্যে জমি নিয়েও যে একটা মিথ তৈরি হয়েছে, তা স্বীকার করেন স্বপনবাবু। তিনি বলেন, এখানে বলা হয়, জমি একটা সমস্যা! কিন্তু প্রাথমিক স্তরের বিনিয়োগে সেই অর্থে জমির দরকার হয় না। সমস্যা যে শুধু রাজ্যের ভাবমূর্তিতেই আটকে নেই, সে-কথাও স্বীকার করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা পণ্য রপ্তানি করার কথা বললেও পণ্যের ডিজাইন সম্পর্কে আমাদের তেমন ধারণা নেই। ইউরোপীয় আইনকানুন সম্পর্কেও আমাদের ধারণা কম। এই সমস্যাগুলি আমাদের পিছিয়ে রেখেছে।
এসব সমস্যা অবশ্য কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলেই মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এখানে এমন কিছু বিনিয়োগ আনতে হবে, যাতে সেসব দেখে লগ্নিকারীদের ভরসা ফিরে আসে। আমাদের বোঝাতে হবে, বাংলায় সত্যিই লগ্নির পরিবেশ ফিরেছে। সরকার যে সত্যিই শিল্পে আন্তরিক, তা প্রমাণ করতে হবে, অভিমত স্বপনবাবুর।



