দেরাদুন, ১৭ জুন: উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে এক মর্মান্তিক ঘটনা। ২৩ বছরের এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য এলাকাজুড়ে। মৃতার নাম রিয়া কুমারী থাপা। তাঁর এই অস্বাভাবিক আত্মহত্যার ঘটনায় দানা বাঁধছে একাধিক প্রশ্ন। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল সে তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
জানা গিয়েছে, রিয়ার বাবা একজন প্রাক্তন সেনাকর্মী। তিনি ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। রীতিমত মেধাবী ছাত্রী ছিলেন রিয়া। স্কুল ও কলেজ উভয় জায়গাতেই ভালো ফলাফল করত সে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মা খাওয়ার জন্য ডাকতে গেলে তিনি ঘরের দরজা খুলছিলেন না। পরে সন্দেহ হতে বিষয়টি বাবাকে জানান। বাকি সদস্যরা অপেক্ষা না করেই দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে রিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই নোটে রিয়া লিখেছেন, 'মা, বাবা আমি তোমাদের ভালোবাসি। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিজের অযোগ্যতার অনুভূতি থেকেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রিয়া রাতে পড়াশোনা করতেন। সাধারণত দেরিতে ঘুম থেকে উঠতেন। তিনি আগামী ২১ জুন নিট পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। প্রথমবার পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না হওয়ায় তখন থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন রিয়া। এমনটাই উঠে এসেছে প্রাথমিক তদন্তে। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, 'পরীক্ষায় প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার হতাশাই আত্মহত্যার প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, রিয়া স্কুলজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিলেন এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৯৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে বিদ্যালয়ের শীর্ষস্থান অধিকার করেছিলেন।' ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।