Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঝুলে ৩৩ লক্ষ মামলা, ৫ বছরেও তৈরি হয়নি কোনও নয়া বিচারকক্ষ

খুন, ধর্ষণ, বধূ নির্যাতন বা জমি জবরদখল—হাজারও ঘটনার আইনি সমাধান পেতে মানুষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। তারা মনে করে, একমাত্র আদালতই দিতে পারে ন্যায় ও সুবিচার।

ঝুলে ৩৩ লক্ষ মামলা, ৫ বছরেও তৈরি হয়নি কোনও নয়া বিচারকক্ষ
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: খুন, ধর্ষণ, বধূ নির্যাতন বা জমি জবরদখল—হাজারও ঘটনার আইনি সমাধান পেতে মানুষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। তারা মনে করে, একমাত্র আদালতই দিতে পারে ন্যায় ও সুবিচার। কিন্তু আদালতে এসেও তো কোনও সুরাহা মিলছে না! কারণ, পর্যাপ্ত বিচারকক্ষ বা এজলাস নেই! কোথায় বসে মামলা শুনবেন বিচারক? কোন কোর্টে উঠবে মামলা? উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ও মহকুমা আদালত ভবনগুলিতে পর্যাপ্ত সংখ্যায় বিচারকক্ষ নেই। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২০২০ সালে এই জেলায় মোট ১৮টি নতুন বিচারকক্ষ তৈরির বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তারপর পাঁচ বছর হতে চললেও তেমন কোনও উদ্যোগ আর দেখা যায়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকছে লক্ষ লক্ষ মামলা। চূড়ান্ত হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে সুবিচারের আশায় ছুটে আসা সাধারণ মানুষকে। জেলা ও মহকুমা আদালতের আইনজীবী থেকে ভুক্তভোগী প্রত্যেক বিচারপ্রার্থী চাইছেন, সরকার দ্রুত এনিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। 

Advertisement

উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় মোট চারটি আদালত আছে। এর মধ্যে বারাসত কোর্ট জেলা আদালত হিসেবে পরিচিত। বাকি তিনটি মহকুমা আদালত। জেলা আদালতের পাশাপাশি মহকুমা আদালতগুলিতেও প্রতিদিন অনেক মামলা ওঠার কথা। কিন্তু বিচারকক্ষ না থাকায় তা হচ্ছে না। আইনজীবীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন রেজিস্ট্রার বিভাসরঞ্জন দে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় নতুন করে ১৮টি বিচারকক্ষ তৈরির প্রস্তাব দেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে। বারাসত জেলা আদালতে আটটি, বারাকপুরে চারটি, বসিরহাটে একটি ও বনগাঁয় একটি করে বিচারকক্ষ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয় সেখানে। এছাড়া বিধাননগরে নতুন একটি আদালত ভবন তৈরি করে চারটি বিচারকক্ষ বা এজলাস তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই কাজের কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি বলেই অভিযোগ। আইনজীবীদের সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শুধু উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় এখনও পর্যন্ত ৩৩ লক্ষ ৩১ হাজার ৪২টি মামলা ঝুলে রয়েছে। এর মধ্যে সিভিল মামলা ৬ লক্ষ ৩৪ হাজার ১০৮টি এবং ক্রিমিনাল কেস ২৬ লক্ষ ৯৬ হাজার ৯৩৪টি। সেই সঙ্গে প্রি-লিটিগেশন বা ট্রায়াল আটকে রয়েছে ১৬,৫৫২টি মামলার। ফলে, যত দিন যাচ্ছে ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সেই সঙ্গে রয়েছে পর্যাপ্ত কর্মীর অভাব। সূত্রের খবর, শুধু এই জেলা নয়, রাজ্যজুড়ে আটকে রয়েছে এরকম লাখো লাখো মামলা। রাজ্যে মোট ৭৩টি বিচারকক্ষ তৈরি আটকে আছে কোনও এক অদৃশ্য কারণে। বারাসত জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ভাস্কর রায় বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ৩৩ লক্ষেরও বেশি মামলা বছরের পর বছর ঝুলে রয়েছে। গোটা রাজেই চিত্রটা কমবেশি এক। সরকার সদিচ্ছা সহকারে দ্রুত ব্যবস্থা নিক—এটাই আমাদের দাবি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ