


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটারদের সম্পর্কে কোনো তথ্য বাঁকুড়া জেলা নির্বাচন দপ্তরে এসে পৌঁছায়নি। ফলে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা মুদ্রিত আকারে প্রকাশ করা কার্যত অসম্ভব বলে প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে এমাসের শেষ দিনে তালিকা প্রকাশের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। ফলে শেষ মুহুর্তে নির্বাচন কমিশন ডিজিটাল ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে পারে বলে জেলা প্রশাসনের কর্তাদের একাংশ মনে করছে।
বাঁকুড়া জেলা নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, নির্বাচন কমিশন ভোটারদের লম্বা তালিকা আমাদের অনলাইনে পাঠিয়ে দেয়। তারপর বিধানসভা ও অংশ(পার্ট) ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে ছাপতে অন্তত তিনদিন সময় লাগে। ফলে শনিবার তালিকা প্রকাশ করতে হলে এদিনের মধ্যেই ভোটারদের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জেলায় চলে আসা প্রয়োজন ছিল। সন্ধ্যা পর্যন্ত তা আমরা পাইনি। ফলে নির্ধারিত দিনে তালিকা প্রকাশ কার্যত অসম্ভব। তবে কমিশন চাইলে ডিজিটাল ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে পারে। পরে তা ছাপাখানায় পাঠানো হবে। এর আগে অবশ্য প্রথামাফিক ছাপা তালিকাই প্রকাশিত হয়েছে। ফলে ডিজিটাল তালিকা প্রকাশিত হলে তা প্রথার বাইরে গিয়ে নতুনত্ব হবে। তিনি আরও বলেন, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জেলায় নতুন করে বুথে সংখ্যা বাড়ছে না। পূর্বের ৩২৮৯টি বুথেই ভোটগ্রহণ হবে।
বাঁকুড়া জেলা নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর শুরুর আগে জেলায় মোট ৩০ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮৩০ ভোটার ছিল। এসআইআরে মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত মিলিয়ে জেলায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৮২১ জন ভোটারের নাম প্রথম দফাতেই বাদ পড়ে। খসড়া ভোটার তালিকায় ২৯ লক্ষ ১ হাজার ৯ জনের নাম প্রকাশিত হয়। পরে নো-ম্যাপিংয়ে ২৫৯০০ এবং লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির আওতায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার ৯২৩ জন ভোটারকে শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়। তারমধ্যে ৪০ হাজার ভোটারকে ‘সন্দেহজনক’ বলে মাইক্রো ও রোল অবজার্ভাররা চিহ্নিত করেন। ফলে অন্তত সাড়ে ২৮ লক্ষ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাকিদের মধ্যে থেকে ঝাড়াইবাছাই করে জুডিশিয়াল অফিসাররা কমিশনকে ‘বৈধ’ ভোটারদের নাম জানানোর পর অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হতে পারে। কিন্তু, প্রথম দফায় চূড়ান্ত তালিকা নিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আমরা জেলার এক ছাপাখানা মালিককে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে রেখেছি। এজেলায় আটটি রাজনৈতিক দলকে এক কপি করে ভোটার তালিকা দিতে হবে। এছাড়াও বিএলও, অফিসে এক কপি করে তালিকা রাখতে হবে। টাঙানোর জন্য বিডিও এবং পঞ্চায়েত অফিসগুলিতে এক কপি করে ভোটার তালিকা পাঠানো হবে। বুথপিছু অন্তত ১২ কপি করে ভোটার তালিকা ছাপাতে হবে। বুথপিছু ভোটার তালিকায় গড়ে ৫০টি করে পাতা থাকে। ফলে ৩২৮৯টি বুথের তালিকা ছাপাতে অন্তত দু’দিন সময় লাগবে বলে ছাপাখানা থেকে জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোটারদের নামধাম পাঠানোর পর অংশ নম্বর ধরে তালিকার পিডিএফ তৈরি করতে ১০-১২ ঘণ্টা সময় লাগবে। তারজন্য কর্মীদের কিছু আগাম প্রস্তুতিও নিতে হয়। ফলে শনিবার তালিকা প্রকাশিত হলেও রাজনৈতিক দলের কর্মী বা ভোটাররা তা হাতে নিয়ে চোখ বোলাতে পারবেন না।