নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জুন মাসে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে হাওড়া জেলা পরিষদে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটল শুক্রবার। অনাস্থা পর্বের প্রায় এক মাস বাদে জেলা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে সদস্যদের ভোটাভুটিতে নতুন সভাধিপতি হিসাবে নির্বাচিত হলেন গোপা ঘোষ এবং সহ সভাধিপতি নির্বাচিত হন তুষারকান্তি ঘোষ।
গত জুন মাসে তুষারকান্তি ঘোষের নেতৃত্বে জেলা পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল সদস্য তৎকালীন সভাধিপতি কাবেরী দাস ও সহ সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, সরকারি প্রকল্পে কাটমানি এবং স্বেচ্ছাচারের অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। যদিও ওই দুই নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ার পরদিনই তাঁরা নিজ নিজ পদ থেকে ইস্তফা দিলে কার্যত ভেঙে যায় তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদ বোর্ড। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই শুক্রবার নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। জেলা পরিষদের মোট ৪২ জন সদস্যের মধ্যে ৪১ জন তৃণমূল এবং একজন বিজেপির। এদিন জেলা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে বিরোধী প্রতিনিধি সহ ৩৬ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদের সচিব ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। ভোটাভুটির পর গোপা ঘোষ সভাধিপতি এবং তুষারকান্তি ঘোষ সহ সভাধিপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।
তুষারকান্তি ঘোষ বলেন, রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় জেলায় উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। জেলার ১৫৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক পরিকল্পনায় উন্নয়ন হবে। উদয়নারায়ণপুর, আমতার মতো কৃষিভিত্তিক পঞ্চায়েত এলাকায় বর্ষাকালে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ডোমজুড়, সাঁকরাইলের মতো শহরকেন্দ্রিক পঞ্চায়েত এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একইসঙ্গে জেলা পরিষদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলার আশ্বাস দেন তিনি। নবনির্বাচিত সভাধিপতি গোপা ঘোষ জানান, সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই জেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টন করা হবে। অন্যদিকে, তৃণমূলের কোন শিবিরের প্রতিনিধি হিসাবে তাঁরা দায়িত্বে এলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি তুষারকান্তি। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক ভবনে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক মন্তব্য করব না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলবে।’ নিজস্ব চিত্র