পাটনা: বিজেপির ‘পৌরোহিত্যে’ দিল্লি থেকে ঘোষণা হয়েছিল আসন রফার ফরমুলা। যদিও পাটনায় এসে সেই রফাসূত্র মুখ থুবড়ে পড়ল। বিহারে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এনডিএ-র শরিকি কাজিয়া তুঙ্গে। বুধবার প্রথম দফায় ৫৭ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে নীতীশ কুমারের জেডিইউ। সেই তালিকায় এমন অন্তত পাঁচটি আসন রয়েছে, যেগুলিতে চিরাগ পাসোয়ানের দাবি মেনে এলজেপির হাতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিজেপি নির্ধারিত ফরমুলাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চিরাগের পছন্দের এই আসনগুলিতে প্রার্থী দিয়ে দিলেন নীতীশ। পাঁচ বছর আগে ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নীতীশের সঙ্গে বনিবনা না হওয়াতেই এককভাবে লড়াই করেছিলেন চিরাগ। রামবিলাস-পুত্রের সেই পদক্ষেপে বহু আসনে ক্ষতি হয়েছিল এনডিএ’র। নীতীশ-চিরাগের অহিনকুল সম্পর্কে এবারও যে ভাটা পড়েনি, জেডিইউয়ের প্রথম প্রার্থী তালিকা থেকেই তা স্পষ্ট। আর এই সংঘাতের মধ্যেই বুধবার চিরাগও ১২ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা ঘোষণা করেছেন। যদিও সেই তালিকায় ওই পাঁচটি আসনের নাম নেই। তবে শুধুই জেডিইউ-এলজেপি কাজিয়া নয়, আসন রফার সূত্রে ক্ষোভের আগুন অন্য শরিকদের মধ্যেও। শত চেষ্টা সত্ত্বেও সেই অসন্তোষ বোতলবন্দি করতে ব্যর্থ বিজেপি নেতৃত্ব। অখুশি রাষ্ট্রীয় লোকমোর্চা (আরএলএম) প্রধান উপেন্দ্র কুশওয়া অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে বুধবার সকালে দিল্লি রওনা হয়ে যান। সূত্রের খবর, বৈশালী জেলার মহুয়া আসন ঘিরে সংঘাত শুরু হয়েছে কুশওয়া ও চিরাগের পার্টির মধ্যে। অসন্তোষের জেরে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন আরও এক এনডিএ শরিক নেতা তথা উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর। বিহারের রফাসূত্রে ঠাঁই না পেয়ে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে তাঁর দল সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি (এসবিএসপি)। ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজভর বলেছেন, সম্মান একতরফা হতে পারে না।



