Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

বিজেপির হাতে ‘রাজপাট’ ছেড়ে বাণপ্রস্থে নীতীশ! প্রশ্নের মুখে জেডিইউর ভবিষ্যৎ

নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক সন্ন্যাস যে হয়েই গেল, তা নিয়ে সংশয় নেই। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

বিজেপির হাতে ‘রাজপাট’ ছেড়ে বাণপ্রস্থে নীতীশ! প্রশ্নের মুখে জেডিইউর ভবিষ্যৎ
  • ৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক সন্ন্যাস যে হয়েই গেল, তা নিয়ে সংশয় নেই। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জয়ও নিশ্চিত। কিন্তু বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফার পর তাঁর দল সংযুক্ত জনতা দল (জেডিইউ)-র ভবিষ্যৎ কী হবে? নীতীশের ইস্তফার সঙ্গেই কি তাঁর দলেরও শেষের শুরু? এই প্রশ্ন ঘিরে বিহার রাজনীতিতে আলোড়ন শুরু হয়েছে। কারণ, দলের মুখ ও সেনাপতি একা নীতীশই। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হবেন, এই প্রতিশ্রুতি পেয়েই যে কোনও জোটকে ভোট দিয়েছে তাঁর অনুগামীরা। তাঁর স্থান যে পুত্র নিশান্ত কুমার নিতে সক্ষম হবেন না, তা নিয়ে সংশয় ঩নেই। এখন প্রশ্ন হল, নীতীশ-পুত্রের নেতৃত্বাধীন জেডিইউকে কতটা গুরুত্ব দেবে বিজেপি? এই প্রথম বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদ দখল করতে চলেছে বিজেপি। নিশান্ত হতে পারেন উপ মুখ্যমন্ত্রী। 

Advertisement

কেন মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে রাজ্যসভার সদস্য হতে চাইছেন? এদিন এক বিবৃতিতে নীতীশ যা জানিয়েছেন, তা  যথেষ্ট বিস্ময়কর। তিনি বলেছেন, বিহার আইনসভার দুই কক্ষে এবং সংসদের দুই কক্ষে অর্থাৎ বিধানসভা, বিধান পরিষদ, লোকসভা এবং রাজ্যসভা- সংসদীয় প্রক্রিয়ার চার কক্ষের সদস্য হওয়া আমার দীর্ঘকালের স্বপ্ন। আগেই লোকসভা, বিধানসভা, বিধান পরিষদের সদস্য হয়েছি। একমাত্র বাকি রাজ্যসভার সদস্যপদ। সেই ইচ্ছাপূরণেই এই সিদ্ধান্ত। নীতীশ বিশেষভাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন, স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিহারে নয়া সরকারের প্রতি তাঁর সম্পূর্ণ সমর্থন ও শুভকামনা থাকবে বলে জানিয়েছেন নীতীশ। 
তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে খোদ দলের অন্দরেই  বিক্ষোভ চরমে। মাত্র তিন মাস আগে বিহারের নির্বাচনী প্রচারে জেডিইউ-র স্লোগান ছিল- ‘পচ্চিশ সে তিশ, বিহারমে নীতীশ’। বিজেপি প্রাথমিকভাবে নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করেনি। কিন্তু তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী প্রজেক্ট না করলে জয়লাভে সমস্যা হবে বলে বুঝতে পারে বিজেপি। তাই বিজেপি নীতীশকে জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। ভোটে জিতেও যায় জোট। আর ঠিক আড়াই মাসের মধ্যেই নীতীশ হটাও প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। নীতীশ শারীরিক ও মানসিকভাবে যে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার উপযুক্ত ছিলেন না, তা বিগত এক বছর ধরেই বোঝা যাচ্ছিল। এমতাবস্থায় জেডিইউ এবং বিজেপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হয় সম্প্রতি। আর তারপরই সিদ্ধান্ত হয়, নিশান্তকে রাজনীতিতে আনা হবে। রাজ্যসভায় পাঠিয়ে নীতীশের সম্মানজনক অবসর ঘটানো হবে। কিন্তু নীতীশ বিহারের রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ায় রাজ্যের রাজনীতির জাতিগত সমীকরণে বিপুল বদল আসতে চলেছে।  মুখ্যমন্ত্রী পদ দখল করে এই সমীকরণে বড়সড় বদল ঘটাতে চাইবে বিজেপি। যাদব ও মুসলিম ছাড়া তেজস্বী যাদবের দলে আর ভোটব্যাঙ্ক নেই। নীতীশের কুর্মি কৈরী ছাড়াও মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে নিজের দিকে টানতে বিজেপি মরিয়া হবে এবার। যাতে ক্রমেই জেডিইউর  ভোটব্যাঙ্কে ভাটা আসে। নীতীশের দলের সবথেকে বড় দুশ্চিন্তা হতে চলেছে, তাদের ৮৫ জন বিধায়ককে ধরে রাখা যাবে তো? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ