নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও বারাকপুর: পালাবদলের ঝড়ে উড়ে গিয়েছে রাজ্যপাট। অভয়া মামলায় খড়দহ থানার লক আপে বিমর্ষভাবে সময় কাটাচ্ছেন নির্মল ঘোষ। তদন্তকারীদের কাছে কখনও অনুশোচনা করেছেন, কখনও আত্মবিশ্বাসী গলায় বলেছেন বিরোধী হলে এসব তো মেনে নিতেই হবে। আর এক ধৃত পানিহাটির প্রাক্তন কাউন্সিলার সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে তোলাবাজির মামলায় বিচারক জামিন দিয়েছেন। তবে অভয়া কেসে সাত দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ অভিযুক্তদের মতো লক আপের মেঝেয় শুয়ে-বসে সময় কাটাচ্ছেন নির্মলবাবু। তবে তাঁকে একটি পৃথক লক আপে রাখা হয়েছে। সিংহভাগ সময় তিনি মাথা নীচু করে বসে আপন মনে কথা বলছেন। সকালে থানার ক্যান্টিনের লিকার চা ও নোনতা বিস্কুট খাচ্ছেন। দুপুরে বাকি আসামিদের মতো ভাত, ডাল, সবজি ও ডিমের ঝোল। রাতে থাকছে রুটি-তরকারি। ২৪ ঘণ্টা সিসি ক্যামেরার নজরদারিও রয়েছে তাঁর উপর। লক আপের বাইরেও রাখা হয়েছে নিরাপত্তারক্ষী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একের পর এক অভিযোগ ওঠায় তিনি উদ্বিগ্ন ও অনুতপ্ত। টিটাগড় থানায় মণীশ শুক্ল খুনের মামলায় ফের অভিযোগের বিষয়টি তাঁর কানে এসেছে। তিনি তদন্তকারীদের বলেছেন, আর কত কেস দেবে বলুন তো? যদিও আমরা তো বিরোধী। এখন টার্গেট করে অত্যাচার করবে।
এদিকে, অভয়ার বাবা শেখররঞ্জন দেবনাথের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্মলবাবুর মতো গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। পুলিশ হেপাজত শেষে এদিন তাঁকে বারাকপুর আদালতে তোলা হয়েছিল। তোলাবাজি মামলায় বিচারক জামিন দিয়েছেন। অভয়া মামলায় তাঁকে সাত দিন জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আজ, শনিবার নির্মলবাবুকে আট দিনের পুলিশ হেপাজতের শেষে বারাকপুর আদালতে তোলা হবে।