Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

নেহরু ও আম্বেদকর

নেহরু ও আম্বেদকর
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংসদের সদ্যসমাপ্ত অধিবেশনে সংবিধান বিতর্কে সংবিধান প্রণেতা বাবাসাহেব আম্বেদকরকে নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর মন্তব্য ঘিরে ঝড় উঠেছে জাতীয় রাজনীতিতে। এই প্রসঙ্গেই উঠে এসেছে হিন্দু কোড বিল ও জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে আইনমন্ত্রী আম্বেদকরের ইস্তফার ঘটনা। কী ছিল হিন্দু কোড বিল? কেনই বা ইস্তফা দিতে হল আম্বেদকরকে? এই বিলকে অনেকেই ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের প্রথম ‘অ্যাসিড টেস্ট’ বলে মনে করেন। গণপরিষদে এই বিল পেশ করা হয়েছিল। বিলের খসড়া তৈরি করেছিলেন আম্বেদকর। নেহরু এই বিলের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছিলেন। সংবিধানে প্রস্তাবিত আইনের সঙ্গে সাজুয্য রেখে হিন্দু সমাজের অভ্যন্তরের বিবিধ বৈষম্য ও অসাম্য দূর করার জন্যই এই উদ্যোগ। সম্পত্তিতে ছেলে-মেয়ে ও বিধবাদের সমান অধিকার, পুরুষদের বহুবিবাহ রোধ, মহিলাদের বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার, স্বজাতের মধ্যে বিয়ের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার মতো সংস্কার বিলোপের মতো সংস্থান ওই কোড বিলে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সময়ে মনে হতেই পারে, এ আর এমন কী? কিন্তু ওই সময় পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মাথারা মহিলাদের এইটুকু অধিকার দিতে রাজি ছিলেন না। তাঁরা ঐতিহ্যের দাবি তুলে বিলের প্রবল বিরোধিতায় নেমে পড়েন। জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বিলের তীব্র বিরোধিতা করেন। এই জনসঙ্ঘই বিজেপির পূর্বসূরি। শ্যামাপ্রসাদ নেহরুর অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন। এছাড়াও আরএসএস, হিন্দু মহাসভা দেশজুড়ে বিক্ষোভে নামে। ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরে রামলীলা ময়দানে সুবিশাল জমায়েত করা হয়। নেহরু ও আম্বেদকরের কুশপুতুলও দাহ করা হয়। কংগ্রেসের অন্দরেও বিরোধিতার মুখে পড়তে হয় নেহরুকে। তীব্র বিরোধিতার মুখে ধীরে চলার কৌশল নেন নেহরু। গণপরিষদ বিলটি ১৯৪৮ সালের এপ্রিলে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠায়। ১৯৪৯ সালের নভেম্বরে সংবিধান প্রস্তুত হয়। ১৯৫০ সালের জানুয়ারিতে তা কার্যকর হয়। ফলে বিলটি ঠান্ডা ঘরে চলে যায়। আর এই কারণে হতাশ হয়ে ১৯৫১ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন আম্বেদকর। ১৯৫১-৫২ সালের প্রথম লোকসভা ভোটে বিপুল জয়ের পর চারটি পৃথক বিলের মাধ্যমে আম্বেদকরের হিন্দু কোড বিল পাশ করেন নেহরু। এজন্য তাঁর প্রশংসাও করেছিলেন আম্বেদকর।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ