Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

চৈতন্য ও মধু নাপিত

চৈতন্য ও মধু নাপিত
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নবদ্বীপ তথা গোটা বাংলায় তখন পণ্ডিত হিসেবে বিশাল নামডাক নিমাই মিশ্রের। এর মধ্যেই পিতৃবিয়োগ হয় তাঁর। শচীমাতার অনুমতি নিয়ে মেসো চন্দ্রশেখরের সঙ্গে গয়ায় পিণ্ড দিতে যান নিমাই। সেখানে পরম কৃষ্ণ-সাধক ঈশ্বরপুরীর সঙ্গে দেখা। তাঁর কাছ থেকেই রাধাকৃষ্ণ যুগল মন্ত্রে দীক্ষা নেন নিমাই। নবদ্বীপে ফিরলেন অন্য এক নতুন নিমাই হয়ে। সারাক্ষণ হা কৃষ্ণ, হা কৃষ্ণ করেন। আছাড়ি-পাছাড়ি খান। ঘেমে নেয়ে যান। মূর্চ্ছা যান। মাটিতে পড়ে যান। আবারও উঠে দাঁড়ান। পাগলের মতো কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলেন। নিমাইকে তখন একমাত্র সামলাতে পারতেন শ্রীগদাধর। উদ্বিগ্ন শচীমাতা কাঁদতে কাঁদতে গদাধরকে বললেন—আই বলে, বাপ তুমি সর্বদা থাকিবা। ছাড়িয়া উহার সঙ্গ কোথাও না যাইবা।। নিমাই এভাবে নবদ্বীপ লীলা সাঙ্গ করে সন্ন্যাস গ্রহণ করতে মনস্থির করেন। আকাশ ভেঙে পড়ল শচীমাতা ও বিষ্ণুপ্রিয়ার মাথায়। কিন্তু নিমাই অনড়। তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করবেনই। চলে এলেন শ্রীকেশব ভারতীর কাটোয়ার (তৎকালীন কণ্টকনগর)আশ্রমে। তাঁকে দেখতে গাঁ উজাড় করে লোকজন এলেন। মধু নাপিত অর্থাৎ মধু শীলকে ডাকা হল নিমাইয়ের মস্তক মুণ্ডন করতে। মধুর সামনে বসে নিমাই। কিন্তু মধু কিছুতেই ক্ষৌরকর্ম করতে পারছেন না। তাঁর হাতই উঠছে না নিমাইয়ের মাথায়। কান্নাকাটি করে আকুল হচ্ছেন তিনি। শেষে নিমাইয়ের উপর্যুপরি অনুরোধে ক্ষৌরকর্ম করলেন শ্রীমধু। কাটোয়া শহরের কাশীগঞ্জ পাড়ার বাসিন্দা তিনি। কথিত, মস্তক মুণ্ডনের সময় নিমাইকে স্পর্শমাত্র এক দিব্য অনুভূতি হয় মধুর। তারপর থেকেই সেই মধু নাপিত শ্রী চৈতন্যদেবকেই আরাধ্য দেবতা হিসেবে মেনে নেন। কাশিগঞ্জ পাড়ার বাড়িতে মহাপ্রভুর সাধন ভজন শুরু করেন। পরে সেই বাড়ি হয়ে ওঠে বাংলার বৈষ্ণব আন্দোলনের অন্যতম পীঠস্থান। আজও মধু নাপিতের বাড়ি বঙ্গের অন্যতম বৈষ্ণবতীর্থ। নাটমন্দির মহন্তদের আবাস গৃহ সবই রয়েছে এখানে। মন্দিরের পাশে সেবাইতদের বংশ পরম্পরার সমাধিক্ষেত্র ও মহাপ্রভুর চরণচিহ্ন রয়েছে। এই মন্দিরে বৈষ্ণব সাধকরা সখী সেজে গৌরাঙ্গ সেবা করতেন। তাই এর নাম ‘সখীর আখড়া’। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ