


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিউ গড়িয়া কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির একটি বাড়ি থেকে শুক্রবার সকালে বৃদ্ধা বিজয়া দাসের (৭৯) মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সেই ঘটনায় পুলিস গ্রেপ্তার করল দিন পাঁচেক আগে কাজে যোগ দেওয়া ওই বাড়ির আয়া ও তার বয়ফ্রেন্ডকে। তদন্তকারীদের দাবি, সোনার গয়না ও টাকা হাতাতে দু’জনে পরিকল্পনা করে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। আশালতা সর্দার নামে ওই আয়া বৃদ্ধাকে একাই খুন করে। তারপর বয়ফ্রেন্ড মহম্মদ জালাল মিরকে সোনার গয়না ও লুট করা মূর্তি রাখতে দেয়। আশালতাকে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে ও তার বয়ফ্রেন্ডকে ঢোলাহাট থেকে শনিবার সকালে গ্রেপ্তার করে পুলিস। লুট করা বালা, কানের দুল ও তিনটি ঠাকুরের মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিস।
কীভাবে ঘটনার কিনারা করল পুলিস? তদন্তে নেমে পুলিস প্রথম থেকেই সন্দেহের তালিকায় রেখেছিল গত ১৭ আগস্ট কাজে যোগ দেওয়া আয়াকে। কারণ, শুক্রবার সকালে সে কাজে আসেনি। মোবাইলও বন্ধ ছিল। বাড়ির দরজা বা জানালা কোথাও ভাঙা বা কাটা না থাকায় তদন্তকারীরা বুঝে যান, ঘরের ভিতরে ছিল, এমন কেউ এই ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রতিটি ঘরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অন্যতম তথ্যপ্রমাণ হয়ে ওঠে। একটি ফুটেজে পুলিস দেখে, আয়া বৃদ্ধাকে ঘর থেকে জোর করে বের করে নিয়ে আসছে। তাঁকে মাটিতে শুইয়ে টানতে টানতে নিয়ে আসা হয় সিঁড়ির দিকে। বৃদ্ধার হাত-পা বেঁধে ফেলতেও দেখা যায় আয়াকে। তাঁর স্বামীকে ওই আয়া খাটের তলায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে, সেই ছবিও ধরা পড়ে ক্যামেরায়। বাড়ির বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরায় এক অপরিচিত যুবকের ছবি ধরা পড়ে। তাকে দীর্ঘক্ষণ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। পরে রিকশ ধরে সে স্টেশনের দিকে চলে যায়।
অভিযুক্ত আয়া যে সেন্টার থেকে এসেছিল, সেখান যায় পুলিস। আয়ার ঠিকানা পাওয়া যায়। পুলিস জানতে পারে, রায়দিঘির বাসিন্দা আশালতা ওই এলাকায় অনেকদিন ধরে কাজ খুঁজছিল। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত মহিলা লুট করা মোবাইল দু’টি খুলেছিল অল্প সময়ের জন্য। তখনই পুলিস টের পায়, ফোন দু’টি নরেন্দ্রপুরে কোথাও রয়েছে। তদন্তে আরও উঠে আসে, ঘটনার আগে ও পরে যে ছেলেটির সঙ্গে আশালতা কথা বলছিল, তার অবস্থান নিউ গড়িয়ায় ঘটনাস্থলের কাছাকাছিই ছিল। প্রতিদিনই কথা হয় দু’জনের। এরপর লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের ডাকাতি দমন শাখা ও থানা শনিবার ভোরে যৌথ অভিযান চালিয়ে ঢোলারহাট থেকে যুবককে গ্রেপ্তার করে। তাকে জেরা করে জানা যায়, ওই আয়া তার গার্লফ্রেন্ড। নরেন্দ্রপুর এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে সে রয়েছে। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আশালতাকে।
ওই আয়া জেরায় জানিয়েছে, তাদের টাকাপয়সার টান ছিল। তাই সে বিজয়াদেবীর গয়না ও মূর্তি, মোবাইল ইত্যাদি লুট করার পরিকল্পনা করে। বয়ফ্রেন্ডও তাতে সম্মতি দেয়। ঘটনার দিন দু’জন একসঙ্গে ওই চত্বরে আসে। বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ঢোকেনি বাড়িতে। সে ঘরে ঢুকে সকাল ৭.২০ থেকে ৮ টার মধ্যে খুন ও লুটপাট চালায়। ক্যামেরার নজর এড়াতেই সিঁড়ির নীচে নিয়ে এসে খুন করে। পরে সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়। বয়ফ্রেন্ডকে এগিয়ে গিয়ে গড়িয়া স্টেশনে অপেক্ষা করতে বলে। এরপর আশালতা স্টেশনে গিয়ে লুটের মাল বয়ফ্রেন্ডের হাতে তুলে দেয়।