• ছবির নাম ‘তেজপাতা’। সেই ছবির রান্নায় আর কী কী ফোড়ন যোগ হল? ‘দুই প্রজন্মের প্রত্যাশা এবং ভাবনা, সেইসঙ্গে সমাজ ও জীবনকে উপলব্ধি করার দৃষ্টিভঙ্গির যে ফারাক, সেটা এই ছবির মধ্যে উঠে আসবে’, বলছিলেন মুখ্য চরিত্রাভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সৌভিক কুণ্ডুর ছবি ‘তেজপাতা’য় এই প্রয়োজনীয় ফোড়নটির গুরুত্ব কতটা? পরমব্রতর যুক্তি, ‘আসলে তেজপাতা রূপকধর্মী নাম। তেজপাতা যখন গরম তেলে ছাড়া হয় চড়বড় করে আওয়াজ হয়, অনেকসময় তেল ছিটকে গায়ে এসে লাগে। অথচ কিছু পদে ফোড়ন হিসেবে তেজপাতা না দিলে সেই খাবারটির স্বাদই হয় না। সেইরকমই জীবনের কিছু কিছু জিনিস কখনও খুব সঙ্কটময় হয়ে ওঠে, আবার সেই সমস্যাগুলো না থাকলে জীবন আসলে জীবন হয়ে ওঠে না।’
ছবির নায়িকা ইশা সাহার পারিবারিক পরিমণ্ডলে প্রজন্মের মতবিরোধ নেই। তাঁর কথায়, ‘তেজপাতায় আমি একটা ফোড়নের কাজ করেছি।’ ছবিতে নায়িকার চরিত্রের নাম দেবপর্ণা। তার জীবনে বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় প্রত্যাশার টানাপড়েন। কীরকম? ইশার উত্তর, ‘বিয়ের পরের দিন থেকেই আর এক মহিলাকে ‘মা’ বলে ডাকতে হবে। কেন? একদিকে প্রত্যাশা অন্যদিকে ইগো থেকে তৈরি হওয়া ক্রাইসিস নিয়েই গল্পটা এগতে থাকে।’
ছবির গল্পটা আসলে চারজনকে ঘিরে। মা, বাবা, ছেলে আর বউমা। বউমা না বলে মা ও মেয়ের গল্পও বলা যায়। মায়ের মেয়ে ফিরে পাওয়া, মেয়ের মা ফিরে পাওয়ার গল্প। ইশার শাশুড়ির ভূমিকায় অভিনয় করছেন লাবণী সরকার। শ্বশুরের চরিত্রে রয়েছেন অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়। ‘সংসারে তেজপাতার মতো সামান্য অথচ অতি প্রয়োজনীয় ছোট্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকে। যেমন অনেকগুলো না বলা কথা। ছোট ছোট ভুল বোঝাবুঝি’, ছবির বিষয় বুঝিয়ে দিলেন পরিচালক। মুহূর্তগুলোকে উপলব্ধি করাটাই সুস্থ সাংসারিক সহাবস্থানের লক্ষণ বলে মনে করেন সৌভিক। এই ছবির প্রযোজনার দায়িত্বে জি বাংলা সিনেমা।
প্রিয়ব্রত দত্ত