Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬

দুর্গম পাহাড়ে নতুন রাস্তা-ব্রিজ, ২ ঘণ্টার পথ এখন ৩৫ মিনিটে, নাগাল্যান্ড-অসমের যোগাযোগে আমূল বদল

নাগাল্যান্ডের মককচুংয়ে নতুন রাস্তা ও ব্রিজের ফলে ২ ঘণ্টার পথ এখন ৩৫ মিনিটে। যোগাযোগের উন্নতিতে উপকৃত ২ লক্ষ ১৩ হাজার মানুষ। বিস্তারিত পড়ুন।

দুর্গম পাহাড়ে নতুন রাস্তা-ব্রিজ, ২ ঘণ্টার পথ এখন ৩৫ মিনিটে, নাগাল্যান্ড-অসমের যোগাযোগে আমূল বদল
  • ২৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অলকাভ নিয়োগী, মককচুং (নাগাল্যান্ড): দুপাশ দিয়ে সবুজ পাহাড়। ওক, গামার, সেগুনের সঙ্গে কোকো, তুলডা, পেক নানা প্রজাতির বাঁশবন। মাঝখানে চওড়া মসৃণ রাস্তা। পাহাড়ির নদীর উপর গড়ে উঠেছে কংক্রিটের ব্রিজ। বৃষ্টির জলে আরো চকচক করে উঠছে কালো বিটুমিন। এতদিন সরু পাহাড়ি ভাঙাচোরা পথই ছিল একমাত্র সম্বল। ২৬ কিমি রাস্তা পেরোতে সময় লেগে যেত ২ ঘণ্টার বেশি। কিন্তু, মককচুং জেলার সেই পুরানো ছবি বদলে দিয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রক। দুর্গম পাহাড়ে তৈরি হয়েছে নতুন রাস্তা-ব্রিজ। আড়াই ঘণ্টার পথ এখন ৩৫ মিনিটেই শেষ! ফলে, সহজেই এখন যাতায়াত করা যাচ্ছে নাগাল্যান্ড থেকে অসম। যোগাযোগের আমূল বদল আসায় বাড়ছে ব্যবসার উন্নতিও।

Advertisement

মককচুং একটি ছোট্ট জেলা শহর। এখান থেকে টুলি হয়ে অসমের দিকে যাওয়ার জন্য একটি পাহাড়ি সরু রাস্তা ছিল। মাঝের অংশটি ছিল সবচেয়ে খারাপ। অথচ, এই অঞ্চলে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। গ্রামের মানুষের সঙ্গে নাগাল্যান্ড অসম যোগাযোগকারী আরো কয়েক হাজার মানুষ রয়েছেন। কিন্তু, খারাপ রাস্তার জন্য তাঁদের প্রতিদিন সমস্যায় পড়তে হত। তাই ওই রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রক ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। সেই টাকা দিয়ে ২৬ কিমি চওড়া রাস্তা এবং তিনটি কংক্রিটের ব্রিজ তৈরি হয়েছে।
মককচুং থেকে টুলির দিকে ৩৮ কিমি এগোলেই চোখে পড়বে নদীর উপর একটি বেইলি ব্রিজ। যার গায়ে এখনো লেখা, ‘মার্টিন বার্ন, ক্যালকাটা’। সেই ব্রিজের সামনে থেকেই শুরু হয়েছে সম্প্রসারণ। শেষ হয়েছে কুবলং অঞ্চলের ৪ কিমি আগে। মিলেছে জাতীয় সড়কে। ফলে, যোগাযোগের উন্নতিও হয়েছে। ধস, নিকাশির কথাও মাথায় রাখা হয়েছে। রাস্তার ধারেই রয়েছে ড্রেন। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। যাতে রাস্তা অক্ষত থাকে। ফিডার রোড টুলি ডিভিশনের এগজিকিউটি ইঞ্জিনিয়ার তিয়াসুনেপ এবং সাব ডিভিশনাল অফিসার (পূর্ত) তালিওয়াপাং বলেন, ইমপুর জংশন থেকে শুসাংগ্রা পর্যন্ত সম্প্রসারণের ফলে, টুলির জাতীয় সড়কের সঙ্গে এবং সদর মককচুংয়ের সঙ্গে মেরাংকং, আসংমা, কিলেংমেন, খানিমো, লংজাং, লংফা, চামি, সুংগ্রাৎসু এবং ইমপুর এলাকা পরস্পরের সঙ্গে জুড়েছে। উপকৃত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ১৩ হাজার। ২ ঘণ্টার রাস্তা এখন ৩৫ মিনিটে যাওয়া যায়। কারণ, ১০-১৫ কিমি ধীর গতি বেড়ে হয়েছে ৬০ কিমি!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ