Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্যে অপরাধীদের দমন করতে পুলিশে নতুন বাহিনী

দুষ্কৃতী দমনে কড়া অবস্থান নিচ্ছে বিজেপি সরকার। দাগিদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে নতুন সরকার। অপরাধীদের দমন করার জন্য পুলিশের বিশেষ বাহিনী তৈরি করা হবে।

রাজ্যে অপরাধীদের দমন করতে পুলিশে নতুন বাহিনী
  • ১০ মে, ২০২৬ ০৬:২৬
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: দুষ্কৃতী দমনে কড়া অবস্থান নিচ্ছে বিজেপি সরকার। দাগিদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে নতুন সরকার। অপরাধীদের দমন করার জন্য পুলিশের বিশেষ বাহিনী তৈরি করা হবে। কয়েকজন সিনিয়র আইপিএস অফিসার এই বাহিনীর মাথার উপর থাকবেন। তাঁরাই এলাকা দাপিয়ে বেড়ানো দুষ্কৃতীদের শ্রীঘরে পাঠাবেন। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর ২৪ পরগনার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। একাধিক অভিযোগ থাকারও পরেও তারা গ্রেপ্তার হয়নি। প্রভাব থাকায় তাদের অনেককে পুলিশ ছোঁয়ার সাহস দেখায়নি। তাদের এবার শায়েস্তা করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisement

বিজেপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েকদিনের মধ্যেই পুলিশে ব্যাপক রদবদল হতে চলেছে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি ওসি, আইসি স্তরেও বেশকিছু রদবদল করা হবে। বিজেপি’র রাজ্যস্তরের এক নেতা বলেন, ভোট প্রচারে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নারী সুরক্ষাতেও জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি জেলাতেই দুষ্কৃতীদের তালিকা তৈরিতে জোর দেওয়া হবে। অপরাধ করার পরেও যারা দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের খাতায় ফেরার রয়েছে তাদেরও খুঁজে বের করা হবে। নির্বাচন চলাকালীন বেশকিছু পুলিশ আধিকারিকের কাজে দিল্লির নেতারা সন্তুষ্ট। তাঁদের ‘প্রাইজ পোস্টিং’ দেওয়া হতে পারে। প্রতিটি থানাকেই দুষ্কৃতীদের তালিকা তৈরি করার জন্য বলা হবে। এছাড়া জিআরপিও এই কাজ করবে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ বা উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলিতে পাচার বন্ধের জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, নারী সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভায় প্রথম বৈঠকেই বড় ঘোষণা করা হবে। এছাড়া বেশকিছু পুরানো কেস নতুন করে আবার তদন্ত শুরু করা হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে পারে। বিজেপির আরএক নেতা বলেন, ভোট প্রচারে যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সবটাই পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করায় নতুন সরকারের টার্গেট হবে। সেক্ষেত্রে সিন্ডিকেট রাজ বা তোলাবাজির অবসান হতে চলেছে। দক্ষ পুলিশ আধিকারিকদের দিয়েই এই কাজ করানো হবে। 
বেশকিছু পুলিশ আধিকারিক দীর্ঘদিন ধরে ব্যাক বেঞ্চে রয়েছেন। তাঁদের সামনে সারিতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ‘চিহ্নিত’ পুলিশ আধিকারিকদের গুরুত্ব কমানো হতে পারে। পুলিশের অন্দরমহলেও তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, পোস্টিং দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সেই সিন্ডিকেটের বাইরে থাকায় অনেক দক্ষ পুলিশ আধিকারিক সেভাবে গুরুত্ব পাননি। নতুন সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দক্ষদের গুরুত্ব দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নত হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ