


সংবাদদাতা, রানাঘাট: গরমের ছুটিতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে শান্তিপুর সূত্রাগড় কারিগর পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই গরমের ছুটিতে স্কুলের মধ্যেই ক্যাম্প করে খুদে পড়ুয়াদের নতুন আধার কার্ড তৈরি ও আপডেট করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ৯মে থেকে গরমের ছুটি পড়েছে সমস্ত রাজ্য সরকারি স্কুলে ছুটি চলবে আগামী ৩১মে পর্যন্ত। তবে গ্রীষ্মকালীন ছুটি চললেও শান্তিপুর সূত্রাগড় কারিগর পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে অন্তত একটা দিন আসতে হচ্ছে। কারণ আগেই ছাত্রছাত্রীদের বলা হয়েছিল তাদের নতুন আধার কার্ড তৈরি ও আপডেট করা হবে। সেজন্য তাদের নামের তালিকা অনুযায়ী একদিন স্কুলে আসতে হবে।
এই স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৩৭৬ জন। তারা প্রত্যেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। অনেক সময় দেখা যায় আধার কার্ড বা পরিচয়পত্র তৈরি ক্ষেত্রে নিজের নামের বানান ভুল, কিংবা বাবা-মায়ের নামের ভুল। এই সমস্ত কারণের জন্যই আধার কার্ড তৈরি হয়নি এমন অনেক রয়েছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজকর্মের ক্ষেত্রে ওই ছাত্রছাত্রীদের যাতে অসুবিধায় না পড়তে হয় সেজন্যই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকাদের এই উদ্যোগ। আগে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ১০জন করে ছাত্রছাত্রীকে কৃষ্ণনগরে নিয়ে গিয়ে আধার কার্ড করিয়ে আনতেন। কিন্তু শান্তিপুর থেকে কৃষ্ণনগর দূরত্ব বেশি হওয়ার অনেক ছাত্রছাত্রী যেতে চাইত না।
এই কারণেই স্কুলের শিক্ষকরা চিন্তাভাবনা করেছিলেন এমন কিছু ব্যবস্থা করতে হবে যাতে স্কুলের মধ্যেই নতুন আধার কার্ড তৈরি বা আপডেট করা যায়। এনিয়ে ওই স্কুলের কর্তৃপক্ষ মেল করে আধার কার্ডের অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওই অফিস থেকে তাদের স্কুলে গিয়েই নতুন আধার কার্ড তৈরি ও আপডেট করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। সেজন্য তাদের শান্তিপুর পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সেইমতো স্কুলের শিক্ষকরা শান্তিপুর পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করেন। এরপর পোস্ট অফিস থেকে দু’জন ওই স্কুলে এসে ছাত্রছাত্রীদের আধার কার্ড করে দেওয়ার কাজ করছেন।
গত মঙ্গলবার থেকে এই পরিষেবা শুরু হয়েছে। তিন থেকে চারদিন ধরে চলবে। এখনো পর্যন্ত ১৮৫ জন ছাত্রছাত্রীর আধার কার্ড করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৭০-৮০ জন ছাত্রছাত্রীর নতুন আধার কার্ড তৈরি ও আপডেট করা হচ্ছে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাপি সরদার জানান, জল ছাড়া যেমন মাছ বাঁচে না, ঠিক তেমনি ছাত্রছাত্রীদের ছাড়া আমরাও বাঁচতে পারব না। ছাত্রছাত্রীদের আধার কার্ডের জন্য অভিভাবকদের যাতে ঘোরাঘুরি না করতে হয়, সেজন্য আমাদের এই উদ্যোগ। ছাত্রছাত্রীদের ব্যাংকের পাসবইয়ে ‘ঐক্যশ্রী’ প্রকল্পর মাধ্যমে স্কলারশিপের টাকা ঢোকে। সেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করতে গেলেও অনেক সময় হেনস্তা হতে হয়। সেজন্য ব্যাংক কর্মীরাও স্কুলে এসে ক্যাম্প করে ছাত্রছাত্রীদের নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছেন।