


শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: চাঁপাডালি মোড়ের তিতুমির বাসস্ট্যান্ডকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাস বলে মনে করা হয়। একটা সময় এখান থেকে জেলার যে কোনও প্রান্তে যাওয়ার জন্য বাস মিলত সহজেই। চিত্রটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে করোনা-পর্বের পর। তখন থেকে বন্ধ প্রায় ৫০ টি রুটের বাস চলাচল। এর মধ্যে জেলার মধ্যে কোথাও যাওয়ার রুট যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে দূরপাল্লার বাসও। এখন নির্দিষ্ট কোনও রুটের বাস পেতে গেলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। অগত্যা বহু মানুষের যাতায়াতের ভরসা হয়ে উঠেছে অটো, টোটো কিংবা ইঞ্জিন ভ্যান। অনেক সময় গাড়ি ভাড়া করে বা ঘুরপথেও যেতে হচ্ছে মানুষকে। এর ফলে আম জনতার যাতায়াত খরচ যেমন বেড়ে গিয়েছে, তেমনই সময় নষ্ট হচ্ছে। সমস্যার কথা জানিয়ে পরিবহণ দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে মানুষের ভোগান্তি চলছেই।
চাঁপাডালির তিতুমির বাসস্ট্যান্ড থেকে কলকাতা, হাওড়া, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বাস চলে। করোনার পর দূরপাল্লার এই বাসগুলির সংখ্যাও কমে গিয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৫০টি রুটে বন্ধ হয়ে গিয়েছে প্রায় ৫০০ বাস। বেসরকারি বাস মালিকদের পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিকরা বাস চালানোর কথা বলেছেন একাধিকবার। কিন্তু তাঁরা রাজি হননি। বন্ধের তালিকায় আছে হাসনাবাদ, শ্যামবাজার, ধর্মতলা ভায়া কলোনি মোড়-সোদপুর ইত্যাদি জনপ্রিয় রুট। বারাসত থেকে বসিরহাট হয়ে ধামাখালি, বনগাঁ থেকে ধর্মতলা (২৫০), হাবড়া থেকে জয়গাছি রুটের বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দত্তপুকুর থেকে ভায়া আমডাঙা দক্ষিণেশ্বর, চাকলা ও কচুয়া থেকে কলকাতায় বাসগুলিও এখন পাওয়া যায় না। বারাসত থেকে বাগদা, বনগাঁ, বারুইপুর, হাওড়া পর্যন্ত একাধিক রুটে চলত সরকারি এসি বা নন এসি বাস। করোনার পর থেকে তা বন্ধ। এই অবস্থায় প্রশাসনের দাবি, তারা কিছু বেসরকারি বাস পুনরায় চালানোর তোড়জোড় শুরু করেছে। সরকারি বাসগুলি ফের চালুর জন্যও পরিবহণ দপ্তরকে বলেছে জেলা প্রশাসন।
বারাসতের বাসিন্দা, পেশায় আইটি কর্মী দেবতোষ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি নিউটাউনে চাকরি করি। কলোনি মোড়ে বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। করোনার আগে এই সমস্যা ছিল না। অনেক সময় এমন হয় যে মোটা টাকা খরচ করে বাইক-ট্যাক্সি বা ট্যাক্সি নিতে হয়। শাসনের বাসিন্দা সৌম্যদীপ দে বলেন, ‘মামা বাড়ি সন্দেশখালিতে। এখন বারাসত না এলে সেখানে যাওয়া যায় না। সময় লাগে চারঘণ্টা। কারণ কলকাতা দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। আগে বসিরহাট দিয়ে যাওয়া যেত। সময়ও কম লাগত। তাই পুরনো রুটে বাস চালু করা হোক।’ পরিবহণ দপ্তরের এক কর্তা বলেন, ‘ইতিমধ্যে ৫০টি রুটের বেসরকারি ৪০০ বাসের লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছে। পুরনো রুটে ফের বাস চালানোর প্রক্রিয়া চলছে।’