Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টাকা দিয়েও জল পায়নি পুরুলিয়া পুরসভার প্রায় ৩ হাজার পরিবার

টাকা দিয়েও জল পায়নি পুরুলিয়া পুরসভার প্রায় ৩ হাজার পরিবার
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধ, পুরুলিয়া: ‘পুরসভার সকল বাসিন্দাকে পরিস্রুত পানীয় জল দেওয়া হবে’- ভোটের ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবের ফারাকটা রয়ে গিয়েছে আজও। পুরুলিয়া পুরসভায় মোট ৩৫ হাজার পরিবার বসবাস করে। অথচ এখনও পর্যন্ত জল পৌঁছেছে মাত্র ১৬ হাজার পরিবারে। জলের সংযোগ নেওয়ার জন্য পুরসভাকে দু’হাজার করে টাকা দেওয়ার পরেও আজও জল পায়নি প্রায় তিন হাজার পরিবার। পুরসভার ‘জল রাজনীতি’ নিয়ে ক্রমশই ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মনে। 

Advertisement

পুরুলিয়া পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ছ’হাজার পরিবারকে নলবাহিত পরিস্রুত পানীয় জল দিতে পেরেছিল পুরুলিয়া পুরসভা। প্রতিদিন সকাল হলেই রাস্তার কলে লাইন দেওয়া ছিল এই শহরের চেনা ছবি। 
২০২৩ সালে ‘অম্রুত-২’ প্রকল্পে পুরসভার ২১ হাজার ১২৪টি পরিবারকে নলবাহিত পানীয় জল দেওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়। প্রকল্পের খরচ বহন করে রাজ্যই। ফলে, এই জলের সংযোগ পুরসভার বিনামূল্যেই দেওয়ার কথা ছিল। যদিও পুরবোর্ড ঠিক করে, জলের সংযোগ দেওয়ার জন্য বাসিন্দাদের থেকে দু’হাজার টাকা করে নেওয়া হবে। এতে পুরসভার নিজস্ব তহবিলও সমৃদ্ধ হবে। পরিস্রুত জল পেতে বাসিন্দারাও পিছপা হননি। তবে এখনও পর্যন্ত ১০হাজার ৫৭০টি পরিবারকে জল দিতে পেরেছে পুরসভা। দু’হাজার টাকা করে নিয়েও ২৯৮৮টি পরিবারকে আজও জল দিতে পারেনি পুরুলিয়া পুরসভা।
পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই পরিবারগুলির মধ্যে অধিকাংশই ৬, ৭, ৯ এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এই সমস্ত ওয়ার্ডের বাসিন্দারা টাকা দিয়েও কেন জল পাচ্ছেন না? পুরসভার চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি বলেন, ‘যে সংস্থা ওই জোনে জলের পাইপ লাইনের কাজ কাজ করছিল, তাদের সঙ্গে বিল সংক্রান্ত একটি সমস্যা হয়েছে। সেই কারণেই ওই সংস্থা কাজ বন্ধ রেখেছে। বিষয়টি বিচারাধীন। তাছাড়া বহু এলাকায় মাটির তলায় চার ইঞ্চি পাইপ না থাকার কারণে জলের সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।’ 
তবে এই সমস্যার জন্য ভুগছেন ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। কবে তাঁদের ওয়ার্ডে জল এসে পৌঁছবে, সেই অপেক্ষায় চাতকের মত চেয়ে রয়েছেন তাঁরা। এনিয়ে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা তৃণমূলের শহর সভাপতি প্রদীপ ডাগা বলেন, বাসিন্দারা টাকা দিয়েছেন, জলের দাবি তো করবেনই। শহরে ভোট কমে যাওয়ার পিছনে জল-দুর্ভোগ অন্যতম একটা কারণ। কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় আমরা দেখছি। 
২০২৩ সালে পুরসভা একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবাসনের বাসিন্দাদের থেকেও জলের সংযোগের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করেছিল। শতাধিক আবাসনের বাসিন্দাও জলের জন্য দু’হাজার টাকা দিয়েছেন। তাঁদেরও জল দিতে পারছে না পুরসভা। এনিয়ে পুরসভার কাউন্সিলার বিভাস রঞ্জন দাস, সুনয় কবিরাজরা বলেন, পুরসভার উচিত দ্রুত জলের সমস্যার সমাধান করা। না হলে জল নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে যেভাবে ক্ষোভ জমছে, তাতে আমাদের সরকারের ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ