নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বিদ্যুৎ চুরি রুখতে এবং বকেয়া বিল আদায়ে এবার আরও কড়া অবস্থানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বিদ্যুৎ বণ্টন দপ্তর। মুখ্যমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তার পরই জেলার আধিকারিকদের মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে বলে দপ্তর সূত্রের খবর। সেই আত্মবিশ্বাসকে হাতিয়ার করেই চলতি মাসে জেলার ৮ হাজার ৩০০-রও বেশি বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় তিন হাজার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক সংস্থার কোটি কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। সেই বকেয়া আদায়ে এতদিন নানা স্তরে বাধার মুখে পড়তে হত। কিন্তু এবার আইন মেনেই কড়া পদক্ষেপ করা হবে। কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বিদ্যুৎ বণ্টন দপ্তরের আধিকারিক নারায়ণ ভৌমিক বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মেনেই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। কোনও নিয়মবিরুদ্ধ কাজ বরদাস্ত করা হবে না। বিদ্যুৎ চুরি ও বকেয়া বিলের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি প্রশাসনিক বৈঠকে বিদ্যুৎ চুরি এবং বকেয়া বিল আদায় নিয়ে সবচেয়ে কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, হুকিং জিরো করতে হবে। বিদ্যুৎ চুরির ক্ষেত্রে কোনো আপস চলবে না। পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের নির্দেশও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিপুল পরিমাণ বকেয়া থাকা সত্ত্বেও কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নরম মনোভাব দেখানো যাবে না। প্রয়োজন হলে নোটিস দিয়ে আইন অনুযায়ী বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় মোট প্রায় ১১ লক্ষ ৩৮ হাজার গৃহস্থালি বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। এছাড়া বাণিজ্যিক ও শিল্প ক্ষেত্রে প্রায় ১ লক্ষ ২৬ হাজার সংযোগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহকের বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে।বিদ্যুৎ দপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, মোট কত টাকা বকেয়া রয়েছে, তার চূড়ান্ত হিসেব তৈরি হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—শতভাগ বকেয়া আদায়।