Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

নদীয়ার রাস উৎসব

নদীয়ার রাস উৎসব
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
বৈষ্ণব রাস মানে রাধা-কৃষ্ণের ব্রজলীলা। শাক্ত রাস মানে শক্তির আরাধনা। দেবী কালিকা, দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, অর্থাৎ শক্তির দেবীর আরাধনা করা হয় এই উৎসবে। আগে পটে পুজো হতো বলে এই পূর্ণিমাকে পট পূর্ণিমাও বলেন অনেকে। নদীয়ায় তখন বৈষ্ণব ধর্মের প্রবল দাপট। কিন্তু সেখানকার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ছিলেন শক্তির উপাসক। বৈষ্ণব ধর্মের জোয়ারের মধ্যেই তিনি নবদ্বীপে প্রচলন করেন শাক্ত রাসের। ক্রমে সে রাস সার্বজনীন হয়ে উঠল। 
Advertisement
নদীয়ার অপর এক শহর শান্তিপুর বিখ্যাত বৈষ্ণব রাসের জন্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় সেই রাস উৎসব ঠাকুর দালানের চার দেওয়ালের মধ্যেই আটকে ছিল। পরে চালু হয় বারোয়ারি রাস। অবশ্য নবদ্বীপে মূল রাস বিখ্যাত হলেও শান্তিপুরের আকর্ষণ ভাঙা রাসেরই। তবে শান্তিপুরের এই রাস উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানান জনশ্রুতি। জানা যায়, শ্রীকৃষ্ণের রাস উৎসব দেখার সাধ হয়েছিল মহাদেবের। রাস চলাকালীন ছদ্মবেশে সেখানে হাজির হন তিনি। কিন্তু কৃষ্ণ তাঁকে ধরে ফেলেন। অযাচিত অনুপ্রবেশের জেরে ভেঙে যায় রাস। কারণ, এই উৎসবে শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া কোনও পুরুষের প্রবেশাধিকার ছিল না। ধরা পড়ে ক্ষুব্ধ মহাদেব ঠিক করেন, কলিকালে সকলকে রাস দর্শন করার সুযোগ দেবেন। শান্তিপুরে রাসের প্রচলন করেছিলেন অদ্বৈতাচার্য। শোনা যায়, তিনি ছিলেন শিবের অবতার। অবশ্য তাঁর সূচনা করা এই রাসে কোনও আড়ম্বর ছিল না। লোকশ্রুতি অনুযায়ী, অদ্বৈত পৌত্র মথুরেশ গোস্বামীর হাত ধরে উৎসবের চেহারা নেয় শান্তিপুরের ভাঙা রাস। এর মধ্যেই একবার বড় গোস্বামী বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায় রাধারমণ বিগ্রহ। তুমুল শোরগোল। দিনকয়েক পরে পাশের দিগনগর গ্রামের এক দিঘিতে মেলে সেই মূর্তি। প্রবল চিন্তায় পড়ে যায় গোস্বামী সমাজ। তাঁদের ধারণা হয়, একা বলেই হয়তো উধাও হয়ে গিয়েছিলেন রাধারমণ। তার পরেই রাধারমণের পাশে শ্রীরাধিকার মূর্তি স্থাপন করা হয়। রাস পূর্ণিমার দিনেই। সেই থেকেই প্রতি বছর রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ কীভাবে যোগ দেবেন? সেকথা মাথায় রেখে মানুষকে রাধারমণ-শ্রীমতীর যুগলমূর্তি দেখাতে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। সেই শোভাযাত্রাই ভাঙা রাসের শোভাযাত্রা নামে খ্যাত।
সম্পর্কিত সংবাদ