Bartaman Logo
২৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৩ বছরে জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান এনসিপিআইয়ের!

২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কার্যত নিঃশব্দেই সাঁকরাইল ব্লকের একাধিক পঞ্চায়েতের ১১টি গ্রামসভা আসনে প্রার্থী দিয়েছিল কুণ্ডু দম্পতির ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপিআই)।

৩ বছরে জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান এনসিপিআইয়ের!
  • ১৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কার্যত নিঃশব্দেই সাঁকরাইল ব্লকের একাধিক পঞ্চায়েতের ১১টি গ্রামসভা আসনে প্রার্থী দিয়েছিল কুণ্ডু দম্পতির ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপিআই)। সম্প্রতি জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দলটির নাম উঠে আসতেই নতুন করে সামনে এসেছে সেই নির্বাচনের নানা তথ্য। দলের হয়ে ভোটে লড়া এক প্রার্থীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে সেই সময়কার একাধিক অজানা প্রসঙ্গ।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এনসিপিআইয়ের দোয়াত-কলম প্রতীকে যাঁরা ভোটে লড়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, কুণ্ডু দম্পতির এনজিওর এক আবাসিক মহিলাও ছিলেন। ঝোরহাট পঞ্চায়েতের ৭৮ নম্বর বুথে বীণা সোরেন নামে এক মহিলাকে প্রার্থী করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তিনি কুণ্ডু দম্পতির কাছেই আবাসিক হিসাবে থাকতেন বলে স্থানীয়দের দাবি। যদিও এদিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং কোনো প্রতিক্রিয়াও মেলেনি তাঁর। তবে দক্ষিণ দুইল্যা গ্রামের বাসিন্দা তথা আন্দুল স্টেশনের কাছে একটি সেলুনের মালিক মিন্টু বেরার খোঁজ মিলেছে। মিন্টুবাবু ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে দুইল্যা পঞ্চায়েতের ৫১ নম্বর বুথের গ্রামসভা আসনে এনসিপিআইয়ের দোয়াত-কলম প্রতীকে প্রার্থী হয়েছিলেন। মিন্টুবাবুর কথায়, সমাজসেবী হিসাবেই তিনি উত্তীয়বাবু ও শিউলি ম্যাডামকে চিনতেন। নাপিতের পেশার পাশাপাশি এলাকার ছোটো ছোটো ছেলেদের জন্য ক্রিকেট অনুশীলনের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন তিনি। সেই সূত্রেই ঝোপঝাড় ও জলমগ্ন একটি মাঠ সংস্কারের অনুরোধ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পরে সেখান থেকেই তাঁকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর।
তাঁর অভিযোগ, গণনার দিন ব্যাপক ছাপ্পা ও রিগিংয়ের জেরে তিনি-সহ অনেক প্রার্থী নিজেদের প্রকৃত প্রাপ্ত ভোট সম্পর্কেও নিশ্চিত হতে পারেননি। এরপর আর উত্তীয়বাবুর সঙ্গে রাজনীতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি। মিন্টুবাবুর দাবি, তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে বিজেপির সক্রিয় কর্মী। শুধু তিনিই নন, এনসিপিআইয়ের হয়ে যাঁরা প্রার্থী হয়েছিলেন, তাঁদের অধিকাংশই বিজেপির সমর্থক অথবা সংঘ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যেই প্রার্থী করা হয়েছে। তবে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের আগে থেকে কোনো যোগাযোগ ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেই দাবি করেন। আচমকাই দলটিকে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসতে দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তাঁর আশা, এর ফলে যদি এলাকার সবুজ মাঠগুলি ফের খেলাধুলার জন্য সংরক্ষিত ও সংস্কার করা হয়, তবে সেটাই হবে সবচেয়ে বড়ো প্রাপ্তি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ