


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এনসিইআরটির ক্লাস এইটের পাঠ্যপুস্তককে কেন্দ্র করে বিতর্কের রেশ এখনও কাটেনি। দেশের মুঘল সম্রাটদের জীবনের শুধুমাত্র অন্ধকারময় এবং নেতিবাচক দিক তুলে ধরে আদতে শিক্ষামন্ত্রক ছোট থেকেই স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের মনে মেরুকরণের বীজ পুঁতে দিতে চাইছে বলে অভিযোগ করছে শিক্ষাবিদদের একাংশ। শিক্ষামন্ত্রক এবং এনসিইআরটির দফায় দফায় ব্যাখ্যার পরেও এই ব্যাপারে চর্চা থামেনি। এবার উত্তরাখণ্ড সরকারের একটি ‘সুপারিশ’কে কেন্দ্র করে ফের তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, এনসিইআরটিকে উত্তরাখণ্ড সরকার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে যাতে, রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে ভগবত গীতা এবং রামায়ণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জানা যাচ্ছে, উত্তরাখণ্ডের শিক্ষামন্ত্রী ধনসিং রাওয়াত সম্প্রতি এনসিইআরটি কর্তৃপক্ষকে এই প্রস্তাব দিয়েছেন।
স্পষ্টই বলা হয়েছে, রাজ্যের ১৭ হাজার সরকারি বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে ভগবত গীতা এবং রামায়ণ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর ফলে পড়ুয়ারা অনেক ছোট থেকেই ভারতের সনাতন ধর্ম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে পারবে। এখানেই শেষ নয়। ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকার পরিকল্পনা করেছে, যতদিন পর্যন্ত এসব সরকারি বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত স্কুলের প্রার্থনা সঙ্গীতে গীতা এবং রামায়ণের শ্লোক আবৃত্তি করবে পড়ুয়ারা।
এই আবহেই এনসিইআরটির অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশোধিত পাঠ্যপুস্তকে শুধুমাত্র মুঘল সম্রাটদের নেতিবাচক দিক তুলে ধরাই নয়। বেমালুম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজিয়া সুলতানা এবং নুরজাহানের প্রসঙ্গও। অথচ এর আগে যখন সিবিএসইর ক্লাস সেভেনের পাঠ্যক্রমে এইসব বিষয় পড়ানো হতো, তখন সেখানে লেখা ছিল সুলতান রাজিয়া তাঁর ভাইদের থেকে দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসক ছিলেন। সম্রাট জাহাঙ্গিরের দরবারে বেগম নুরজাহানের ব্যাপক প্রভাব ছিল বলেও উল্লেখ ছিল। সংশোধিত পাঠ্যবইয়ে এসব বাদ দেওয়া হয়েছে।
১২৩৬ থেকে ১২৪০ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত রাজিয়া সুলতানার শাসনকাল দেশের সুলতানি শাসন-ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সংশোধনের আগে এনসিইআরটির পাঠ্যবইয়েই উল্লেখ করা হয়েছিল যে, রাজিয়া সুলতানা তাঁর ভাইদের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষ শাসক ছিলেন। একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গিরের স্ত্রী নূরজাহান সম্পর্কিত অধ্যায়ও। দেশ পরিচালনায় জাহাঙ্গিরের পাশাপাশি তাঁরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেই জানা যায়। অভিযোগ, সিবিএসইর অষ্টম শ্রেণির এনসিইআরটি পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে টিপু সুলতানের প্রসঙ্গও। শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, মোদি সরকার যতই বিতর্ক ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করুক না কেন, আপাতত তা নিভবে না। বরং নতুন ইস্যুতে তা আরও জ্বলে ওঠার আশঙ্কাই তৈরি হচ্ছে।