Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিবিধ

নবাগতদের লেখার সুযোগ দিয়েছেন বরুণবাবু অমর মিত্র

নবাগতদের লেখার সুযোগ দিয়েছেন বরুণবাবু
অমর মিত্র
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
১৯৭১। শুরু হয়েছে পূর্ব পাকিস্তানে মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের আদি বাড়ি সাতক্ষীরায়। কলকাতায় থাকলেও সেই জায়গার প্রতি রয়ে গিয়েছে আলাদা টান। একদিন কাগজে দেখলাম বরুণ সেনগুপ্ত সাতক্ষীরা থেকে রিপোর্ট লিখেছেন। গোগ্রাসে পড়লাম তাঁর লেখা। বরুণবাবুর ‘রাজ্য-রাজনীতি’ কলামের অন্ধভক্ত ছিলাম। ওই সাতের দশকেই দেশজুড়ে জারি হল জরুরি অবস্থা। আবারও ঝলসে উঠল বরুণবাবুর কলম। এ প্রসঙ্গে আরও একজন সাংবাদিকের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব, তিনি গৌরকিশোর ঘোষ। জরুরি অবস্থার সময় সরকার সাধারণ মানুষের যে কণ্ঠরোধের চেষ্টা করেছিল, এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল বরুণবাবুর লেখনী। তিনি সরকারের অন্যায় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন। যার জন্য তাঁকে জেলেও যেতে হয়েছিল।
Advertisement
১৯৮৪ সালের ৭ ডিসেম্বর। প্রকাশিত হল বরুণ সেনগুপ্তর সম্পাদনায় নতুন দৈনিক ‘বর্তমান’। এর কয়েক বছর পর প্রকাশিত হয় ‘সাপ্তাহিক বর্তমান’ ম্যাগাজিন। আমি তখন নিতান্ত নবাগত লেখক। ইএম বাইপাসে নয়, সেই সময় বর্তমান অফিস এ জে সি বোস রোডে। একদিন লেখা জমা দেওয়ার জন্য পৌঁছে গেলাম তাঁদের দপ্তরে। দেখলাম, একটি কাচের ঘরের মধ্যে বসে রয়েছেন আমার স্বপ্নের সাংবাদিক-সম্পাদক বরুণ সেনগুপ্ত। না, কথা বলার সুযোগ হয়নি সেদিন। দূর থেকেই তাঁকে উজাড় করে দিলাম মনের শ্রদ্ধা। ‘বর্তমান’, ‘সাপ্তাহিক বর্তমান’ ও ‘শারদীয়া বর্তমান’-এ লেখার প্রচুর সুযোগ পেয়েছি। আমার সাহিত্যিক হয়ে ওঠার নেপথ্যে ‘বর্তমান’ গোষ্ঠীর অবদান অনস্বীকার্য। একজন সম্পাদক হিসেবে বরুণবাবু যে সেদিন আমার মতো নতুন এক লেখককে সুযোগ ও স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, তার জন্য ওঁর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। শুধু আমি একা নই, বহু নতুন লেখক-সাহিত্যিককে লেখার জায়গা করে দিয়েছেন তিনি।
‘সাপ্তাহিক বর্তমান’-এর প্রথম বর্ষপূর্তি সংখ্যায় আমার লেখা নভলেট ‘আসনবনি’ প্রকাশিত হয়। এর মাস ছয়েক পরে এই ম্যাগাজিনেই একটি ধারাবাহিক উপন্যাস লেখার জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাঁকুড়া-দামোদর রিভার রেলওয়ে নিয়ে ‘আগুন গাড়ি’ নামে একটি উপন্যাস লিখি। এছাড়াও, ‘বর্তমান রবিবার’, ‘সাপ্তাহিক বর্তমান’ ও ‘শারদীয়া বর্তমান’-এ বহু ধারাবাহিক, ছোটগল্প ও উপন্যাস লিখেছি।
বরুণবাবু আর আমাদের মধ্যে নেই। তবে, তাঁর হাতেগড়া ‘বর্তমান’ পত্রিকার আজ ৪১তম জন্মদিন। গত চার দশকে ধারে-ভারে বৃদ্ধি পেয়েছে বর্তমান গোষ্ঠী। একে একে যুক্ত হয়েছে ‘সাপ্তাহিক বর্তমান’, ‘সুখী গৃহকোণ’ ও ‘শরীর ও স্বাস্থ্য’ ম্যাগাজিন। কয়েক বছর আগে শুরু হয়েছে হিন্দি বর্তমান কাগজ। 
আশা করি, এই পত্রিকা আরও এগিয়ে যাবে। বরুণ সেনগুপ্তর দেখানো পথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শাণিত কলম ঝলসে উঠবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ