Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবদ্বীপ রেলগেটে ঝুঁকির পারাপার, দুর্ঘটনার শঙ্কা, ফ্লাইওভারের দাবি

নবদ্বীপ রেলগেটে ঝুঁকির পারাপার, দুর্ঘটনার শঙ্কা, ফ্লাইওভারের দাবি
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, মায়াপুর: এ-যেন এক নিয়ম ভাঙার খেলা! ট্রেন আসছে, গেট পড়ছে। তবুও একশ্রেণির মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন্ধ রেল গেটের তলা দিয়ে লাইন পেরিয়ে চলাচল করছেন। নবদ্বীপ রেলগেটের এই চিত্র নিত্য দিনের। যাতে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
Advertisement
নবদ্বীপ রেলগেটে কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার ইরফান সর্দার বলেন, আমি বরাবরই এখানে ডিউটি করি। বারবার নিষেধ করলেও কেউ শোনে না। রেল গেটের তলা দিয়ে বা পাশের ফাঁকা অংশ দিয়ে স্কুটি নিয়েও পেরিয়ে যেতে দেখি। অনেককেই আমি চেপে ধরে আটকেছি। মূলত স্থানীয়দের মধ্যেই নিয়ম ভাঙার প্রবণতা বেশি। একই বক্তব্য নবদ্বীপ রেলগেটের গেট-অপারেটার সঞ্জীবকুমার দত্তেরও। তিনি বলেন, এখনও অবধি কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি ঠিকই। কিন্তু তা ঘটতে কতক্ষণ? আমরা বহুবার বারণ করেছি। কিন্তু কেউ শোনেই না। কতদিন আর বলব বলুন? 
নবদ্বীপ ধাম রেলস্টেশনের আরপিএফের হেড কনস্টেবল পি মিশ্র বলেন, আরপিএফের তরফে সাধারণ মানুষকে ভীষণভাবে সচেতন করা হয়। অনেকসময় কেসও করা হয়। তবে সবথেকে বড় কথা, মানুষকে আগে সচেতন হতে হবে। ওই জায়গায় তো সবসময় টহল দেওয়া সম্ভব নয়। তবুও আমরা খুবই চেষ্টা করি। সাধারণ মানুষকে বোঝাই। নিজের পরিবারের মানুষগুলির কথা তো অন্তত ভেবে দেখা উচিত। নিজের কিছু হয়ে গেলে পরিবারের মানুষগুলি ভুগবে। এটা সবাইকে বুঝতে হবে। তবে উপর মহলে আবারও বিষয়টি নিয়ে কথা বলব। রেলগেটের এই রাস্তাটি পূর্ব বর্ধমান জেলা এবং কলকাতার সঙ্গে নবদ্বীপের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ। মায়াপুর বা কৃষ্ণনগর থেকে বাইরে যাওয়ার জন্যও এই রেলগেট পেরোতে হয়। তবে ট্রেন চলাচলের সময়ে বারবার গেট পড়লে যানজট সৃষ্টি হয়। তাই অনেকেই ব্যারিকেড পেরিয়ে চলে যান। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, জানি এটা খুবই বিপজ্জনক কাজ। কিন্তু অনেক সময় তাড়াহুড়ো থাকলে এভাবে যেতে হয়। অতক্ষণ দাঁড়ানোর সময় সবসময় থাকে না। স্থানীয় বাসিন্দা বিদ্যুৎ কবিরাজ বলেন, লকডাউনের সময় গাছ কেটে রাস্তা চওড়া করা হয়েছিল। শুনেছিলাম এখানে নাকি ফ্লাইওভার হবে। কিন্তু সেসব আর হল কই? 
এক টোটো চালকের কথায়, ফ্লাইওভার হলে অবশ্য এই যানজট থাকতো না। আর ব্যারিকেড পেরোনোর প্রয়োজনও হতো না। এবিষয়ে নবদ্বীপ ট্রাফিক পুলিসের এএসআই সত্যেন্দ্রনাথ পাত্র বলেন, ওই রাস্তাটি টু-ওয়ে। তবে ফোর লেন রাস্তা না হলে ফ্লাইওভার হওয়া মুশকিল আছে। তবুও যদি রেলের তরফ থেকে ওখানে ফ্লাইওভার করা হয়, সেটা আলাদা বিষয়। তবে পূর্তদপ্তরের পক্ষ থেকে সেরকম কোনও পরিকল্পনার কথা এখনও পর্যন্ত আমাদের জানানো হয়নি।  -নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ