


‘বিলিভ’ লেখা রোনাল্ডোর ছবিতে উদ্দীপ্ত নায়ক
লন্ডন: হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং বল করো জোরে...। এই মন্ত্র সঙ্গী করেই রবিবার রাতে ঘুমোতে গিয়েছিলেন মহম্মদ সিরাজ। সিরিজ বাঁচানোর লড়াই। পুঁজি মাত্র ৩৫ রান। তার মধ্যেই ফেলতে হবে ইংল্যান্ডের ৪ উইকেট। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচের পরিণতি নিয়ে আশা-আশঙ্কায় সকলেই। কিন্তু সিরাজ? তাঁর বিশ্বাস ছিল, বিজয়ীর হাসি তাঁরাই হাসবেন। তিনি করেও দেখিয়েছেন। ৯ উইকেট নিয়ে দলকে জিতিয়ে ম্যাচের নায়ক মিঁয়া। থ্রিলারের শেষ অঙ্কের জন্য কীভাবে নিজেকে তৈরি করেছিলেন, সেই রহস্য উন্মোচনও করলেন ম্যাচের পর। আপ্লুত সিরাজের কথায়, ‘সোমবার ঘুম থেকে উঠেই ফোন খুলে গুগল সার্চ করে স্ক্রিনশট নিয়েছিলাম ‘বিলিভ’ লেখা একটা ইমোজি। সেটা ওয়ালপেপারে সেট করে নিয়েছিলাম। মোবাইল খুললেই যাতে তা চোখে পড়ে। আমার বিশ্বাস ছিল, দলকে জেতাতে পারব। সেটা করতে পেরে ভালো লাগছে।’
সিরিজে মোট ২৩টি উইকেট নিয়েছেন হায়দরাবাদ পুলিসের ডিসিপি মহম্মদ সিরাজ। তার মধ্যে শেষ ম্যাচেই ন’টা। তাঁর নায়ক সিআরসেভেন। নিজেকে তাতাতে এদিন রোনাল্ডোর ছবিই বেছে নেন। ছবির উপরে লেখা ছিল বিলিভ। সিরাজের কান্নার ছবিও ভাইরাল। আসলে বুমরাহর মতো তারকার অভাব টের পেতে দেননি তিনি। অথচ হারলে ডানহাতি পেসারটিই হতেন খলনায়ক। হ্যারি ব্রুকের সহজ ক্যাচ জলাঞ্জলি দেওয়ার জন্য কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতো তাঁকে। হয়তো তারই প্রায়শ্চিত্ত করলেন শেষ দিন দলকে জিতিয়ে। বিধ্বংসী স্পেলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ওভালের নায়ক সিরাজই। তবুও ব্রুকের ক্যাচ মিস মন থেকে মুছে ফেলতে পারেননি। বলছিলেন, ‘কাল যদি ব্রুকের ক্যাচটা ধরতে পারতাম, তাহলে জয়ের জন্য এতক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো না। কালই খেলাটা শেষ করে দিতে পারতাম। ওই মুহূর্তটা আমাকে সব সময় ভাবিয়েছে। চরম হতাশা গ্রাস করেছিল যখন ব্রুক সেঞ্চুরি হাঁকাল। মনে মনে ভাবছিলাম, আমার দোষেই দল ডুবতে বসেছে। যাই হোক, ঈশ্বর মুখ তুলে চেয়েছেন।’ একটু থেমে যোগ করলেন, ‘ব্রুক ও রুটের লড়াইকে কুর্নিশ। ওদের পার্টনারশিপের পর লড়াইটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। তবে আমরা কখনওই হাল ছাড়িনি। ধারাবাহিকভাবে প্রত্যেকেই ভালো বল করেছি। প্রসিদ্ধও অসাধারণ তা মানতেই হবে।’