


সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ‘প্যানিক বুকিং করবেন না। যথেষ্ট পরিমাণে মজুত রয়েছে এলপিজি। কোনো আকাল নেই। অযথা আতঙ্কের জেরে অপ্রয়োজনেও গ্যাস বুকিং করা হলে প্রকৃত সংকটের সৃষ্টি হবে।’ এলপিজি সমস্যা নিয়ে এমনই আশ্বাসবাণী দিয়ে এসেছে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। মঙ্গলবার সেই পেট্রলিয়াম মন্ত্রকই ভারতবাসীকে জানিয়ে দিল, গ্যাস বুঝেশুনে খরচ করুন! যথাসম্ভব কম কম ব্যবহার করুন। অযথা বেশি বেশি ব্যবহার যেন না করা হয়। এখানেই শেষ নয়, পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা বলেছেন, ‘সর্বদাই যে এলপিজি ব্যবহার করতে হবে, এমন নয়। বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার করতে হবে বেশি করে।’ পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের এই বার্তায় আশ্বাস নয়, বরং আশঙ্কাই বেশি করে জন্ম হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর ২০ দিন কেটে গিয়েছে। সংঘাত শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। তার থেকেও উদ্বেগজনক হল, হরমুজ প্রণালী বন্ধ। মাত্র দুটি এলপিজি ভর্তি জাহাজকে ছাড় দেওয়ার পর থেকে ইরান পুরোপুরি নীরব। জানা যাচ্ছে, ভারত সরকারকে একঝাঁক শর্ত দিয়েছে তেহরান। সেগুলি মানলেই হরমুজ প্রণালী খোলা হবে। সম্ভবত সেই কারণেই এদিন সুজাতা শর্মা বলেছেন, এলপিজি নিয়ে উদ্বেগ যথেষ্ট বয়েছে। আর সেই উদ্বেগ এতটাই যে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। যে শহরগুলিতে পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, সেখানে অবিলম্বে সেই কাজ সমাপ্ত করতে হবে। ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ, সকলকেই বলা হয়েছে সম্ভব হলে পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ নিতে। এমনকী সরকারের পক্ষ থেকে এই অফারও দেওয়া হয়েছে যে, এখন যারা পাইপলাইনের সংযোগ নেবে, তাদের এককালীন সিকিউরিটি ডিপোজিট মকুব করা হবে। এমনকি প্রথম বিলের ক্ষেত্রেও মিলবে ছাড়ও।
ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের ব্যবহার কমে গিয়েছে দেশজুড়ে। এলপিজি ব্যবহার গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৫ দিনে ছিল ১৫ লক্ষ টন। মার্চ মাসের প্রথম ১৫ দিনে সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ লক্ষ টন। চাহিদার ৬০ শতাংশ এলপিজি বিদেশ থেকে আমদানি করে ভারত। আর যত এলপিজি আমদানি হয়, তার ৯০ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। রান্নার গ্যাসের মতোই এয়ার টারবাইন ফুয়েল ব্যবহারও কমে গিয়েছে বিগত এক মাসে। এর অর্থ একটাই, ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে বিমান পরিবহণ সংস্থাগুলি। তার জেরে বেড়ে চলেছে বিমান ভাড়া।