


সংবাদদাতা, বেলদা: বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে নারায়ণগড়, দাঁতন, কেশিয়ারি এবং মোহনপুর ব্লকের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কিছু অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছিল। এলাকার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় দখলের পাশাপাশি বিভিন্ন পঞ্চায়েত অফিসের মূল গেটে গেরুয়া পতাকা বেঁধে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার পর্যন্ত পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও, বুধবার সকাল থেকে প্রশাসনের কড়া বার্তার পর চিত্রটা বদলাতে শুরু করে।
টানা দু' দিন ধরে একাধিক পঞ্চায়েত অফিস বন্ধ থাকায় চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হন মানুষ। অনেকেই পরিষেবা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান। সূত্রের খবর অনুযায়ী, কেশিয়াড়ি ব্লকের ন’টি পঞ্চায়েতের মধ্যে তিনটি, দাঁতন-১ ব্লকের দু’টি, মোহনপুরের তিনটি, দাঁতন-২ ব্লকের সাতটি এবং নারায়ণগড়ের প্রায় ১৫টি পঞ্চায়েতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে থাকায় জেলা প্রশাসন সাংবাদিক বৈঠক করে গোলমালকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেয়। এরপর বুধবার ব্লক প্রশাসন ও বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনার পর জট কাটে এবং বিকেলের মধ্যেই অধিকাংশ পঞ্চায়েতের তালা খুলে দেওয়া হয়।
পঞ্চায়েতের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এই রাজনৈতিক উত্তাপের প্রভাব পড়ে। বেলদা, দাঁতন, নারায়ণগড় ও মোহনপুর কলেজের মূল গেটে গেরুয়া পতাকা বেঁধে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। দখল করা হয় কলেজের ইউনিয়ন রুমগুলি, পুড়িয়ে দেওয়া হয় যাবতীয় জিনিসপত্র। এর পাশাপাশি, নারায়ণগড়ের পাকুড়সেনী এলাকায় এক স্থানীয় তৃণমূল নেতার অফিস ঘর ও গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এইসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ মানুষ। তাদের কথায়, প্রথম থেকেই ক্ষমতার এমন অপব্যবহার শুরু হয়ে গিয়েছে, এটা না হলেই সবার ভালো।
এই ঘটনার কড়া নিন্দা করেছেন নারায়ণগড়ের নবনির্বাচিত বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, দলীয় নির্দেশ অমান্য করে যারা এই ধরনের অনৈতিক কাজকর্ম করছে, দল তাদের দায়ভার নেবে না। প্রশাসন কড়া হাতে এদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দল বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করবে না বলে তিনি স্থানীয় মানুষকে আশ্বস্ত করেন। ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুত সব পঞ্চায়েতের কাজ স্বাভাবিক হবে এবং জনজীবন ফের ছন্দে ফিরবে।-নিজস্ব চিত্র