গ্রামীণ হাওড়ার অন্যতম এক জনপদ আমতা। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মতো এই অঞ্চলেও প্রায় সারা বছরই কোনও না কোনও পুজো-উৎসব লেগেই থাকে। এই আমতার সোমেশ্বর গ্রামেই প্রথম ‘নারায়ণের অনন্তশয্যা’ পুজো শুরু হয়েছিল। কী এই ‘অনন্তশয্যা’? পুরাণ অনুযায়ী, নারায়ণের নাভি থেকে পদ্মযোনি ব্রহ্মার আবির্ভাব। পদ্মের উপর বসে তিনি তপস্যায় মগ্ন। বলা হয় যে, বিষ্ণুর কর্ণমূল থেকে আবির্ভূত হয়ে এক অসুর ব্রহ্মাকে বধ করতে গেলে বিষ্ণু মধু ও তার ভ্রাতা কৈটভকে বিনাশ করেন। সেই কারণেই বিষ্ণুর নাম মধুসূদন ও মধুকৈটভহারি। পুরাণে বলা হয়েছে, ক্ষীরোদ সাগরে অনন্ত নাগ কুণ্ডলীকৃত অবস্থায় ভাসমান পদ্মের মধ্যে সপ্তমুখমণ্ডল ধারণপূর্বক নারায়ণের মস্তক ছত্রবৎ আচ্ছাদিত করে আছে, আর মা লক্ষ্মী নারায়ণের পদসেবায় রত— এটাই হল নারায়ণের চিরকালীন অনন্তশয্যা। ১৩৫৪ সনে সোমেশ্বর গ্রামের বিদ্বজ্জন হরিশ্চন্দ্র বর পুরীতে বেড়াতে গিয়ে জগন্নাথ ঘাটে নারায়ণের অনন্তশয্যার মূর্তি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। তা দেখেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, নিজের গ্রামেও বিষ্ণুর এই রূপের পুজো করবেন। এরপর এক বছরের মধ্যেই দোল পূর্ণিমার দিনে নিজের গ্রামে তিনি প্রথমবার এই পুজো শুরু করেন। শুরুতে উৎসব চলত দশদিন ধরে। বর্তমানে তা কমে গিয়েছে। বর্তমানে পুজো হয় সাতদিন। মন্দিরের মূল মণ্ডপে সাতটি শেষনাগের ফণার নীচে পা মেলে বসে আছেন নারায়ণ। তাঁর পায়ের নীচে বসে দেবী লক্ষ্মী। দেবীর মাথায় ছায়া দিয়েছে একটি শেষনাগের ফণা। আর মূল মণ্ডপ ঘিরে রয়েছে নারায়ণের দশাবতার। তিথি অনুযায়ী, পুজো বসন্তের ফাল্গুনী পূর্ণিমায় দোল উৎসবের দিন অনুষ্ঠিত হয় এই অনন্তশয্যার পুজো।



