শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: বুধবার জেল থেকে মুক্ত হন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নন্দীগ্রাম, টেঙ্গুয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় দাপিয়ে প্রচার শুরু করলেন। সেই প্রচার থেকে ভূমিপুত্র ইস্যুতে বিজেপিকে নিশানা করেন। জমি আন্দোলনের মাটি থেকে আবার পরিবর্তনের আওয়াজ তুললেন। এদিন বিকালে গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহেশপুর বাজার, সোনাচূড়াতেও ভোট প্রচারে তাঁর নিশানায় ছিল মূল প্রতিপক্ষ বিজেপি।
ভোটের প্রচারে বেরিয়ে কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, ‘২০ বছরে নন্দীগ্রাম অবহেলিত এবং বঞ্চিত। ২০০৭ সালে জমি আন্দোলনে ৫০টি মৃতদেহের উপর ভিত্তি করে ২০১১সালে রাজ্যে পালাবদল হয়েছিল। অথচ, সেই নন্দীগ্রাম স্বার্থত্যাগের প্রতীক হয়ে রয়ে গেল। হিন্দু-মুসলিম পাশাপাশি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে বসবাস করে। সেই সম্পর্কের মধ্যে ঘুণ ধরানোর চেষ্টা চলছে। তাই রাজনৈতিক সচেতন নন্দীগ্রামের মানুষ পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে রয়েছে।’
মিলনবাবু বলেন, ‘নন্দীগ্রামের বিজেপি কর্মীরা চোখের জল ফেলছেন। নেতৃত্ব চোখে জল ফেলছে। তাঁদের মনে একটাই প্রশ্ন, এই মাটি কি এতটাই অনুর্বর! কাউকে প্রার্থী হিসাবে পাওয়া গেল না? একজন বহিরাগত মহিলাকে এনে প্রার্থী করা হল। তাঁকে নন্দীগ্রামের মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া হল। এখানে কি বিজেপির শিক্ষিত মানুষজন নেই?’
বৃহস্পতিবার সকালে নন্দীগ্রাম থেকে টেঙ্গুয়া সহ আশপাশ এলাকায় কখনো গাড়িতে চড়ে, কখনো হেঁটে জনসংযোগ সারেন কংগ্রেস প্রার্থী। এক জায়গায় বিজেপির প্রার্থীর গাড়ি চলে আসায় সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। বিকালে মহেশপুর বাজার, সোনাচূড়া প্রভৃতি এলাকায় তিনি ভোট প্রচার সারেন। দোকানদার থেকে পথচলতি মানুষজনের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন। ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। নন্দীগ্রামের মাটি থেকে আবার পরিবর্তনের আওয়াজ তোলেন।
বুধবার হলদিয়া জেল থেকে বেরনোর পর তাঁকে ঘিরে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে বিপুল উন্মাদনা তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে এবং বিকালের প্রচারেও উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস ভট্টাচার্য, ব্লক সভাপতি শেখ আসরাফুল্লা সহ অন্যান্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিল। শুভাশিসবাবু বলেন, উপনির্বাচনে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর শক্তি একমাত্র কংগ্রেস। সেটা বিজেপি আগেভাগে বুঝতে পেরেছিল বলেই পুলিশকে কাজে লাগিয়ে ১৭আগস্ট আমাদের প্রার্থীকে ধরে মন্দারমণিতে প্রার্থীপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে, মিলন বুকের পাটা দেখিয়েছে। সেইসঙ্গে কংগ্রেস কর্মীরাও জীবন বাজি রেখে এই লড়াই লড়তে তৈরি। আমরা প্রচারে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররা অবাধে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে অনেক হিসাব উলটে যেতে পারে।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, ২০২৬ সালে ২৩ এপ্রিল নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী ছিল। ওরা কত ভোট পেয়েছিল, সেটা মাথায় রেখে ওদের মন্তব্য করা উচিত।