Bartaman Logo
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআরে নাম বাদ, আবাসের টাকা ফেরত চেয়ে নিল প্রশাসন

বহু আবেদন-নিবেদনের পর আবাস যোজনায় ঘর বরাদ্দ হয়েছিল। দুবরাজপুর ব্লকের আদমপুরের বধূ আলেনুর বিবির স্বপ্ন ছিল, এবার টিনের চাল দেওয়া জরাজীর্ণ মাটির বাড়ির বদলে পাকা ছাদের তলায় ঘুমোবেন।

এসআইআরে নাম বাদ, আবাসের টাকা ফেরত চেয়ে নিল প্রশাসন
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পিনাকী ধোলে, সিউড়ি: বহু আবেদন-নিবেদনের পর আবাস যোজনায় ঘর বরাদ্দ হয়েছিল। দুবরাজপুর ব্লকের আদমপুরের বধূ আলেনুর বিবির স্বপ্ন ছিল, এবার টিনের চাল দেওয়া জরাজীর্ণ মাটির বাড়ির বদলে পাকা ছাদের তলায় ঘুমোবেন। কিন্তু এসআইআরে নাম না ওঠায় তাঁর সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে বসেছে। ভোটার তালিকায় উপভোক্তার নাম নেই। তাই আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির ৬০হাজার টাকা ফেরত চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছে ব্লক প্রশাসন। অর্ধেক বাড়ি করার পর শনিবার এই নোটিস পেয়ে আলেনুর বিবির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। সোমবার তিনি ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। আলেনুর বিবির স্বামী পেশায় দিনমজুর। বহু কষ্টে দিন গুজরান হয়। তাঁর দাবি, ২০১৬ সালেও ঘরপ্রাপকের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। কিন্তু এলাকার রাজনৈতিক ‘দাদা’রা কলকাঠি নাড়ায় বাড়ি পাননি। প্রায় একদশক অপেক্ষার পর এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির ৬০হাজার টাকা পান। সেই টাকা দিয়ে প্রায় অর্ধেক বাড়ি দাঁড় করিয়েছেন। দ্বিতীয় কিস্তির টাকার জন্য যখন অপেক্ষায় ছিলেন, তখনই প্রথম কিস্তির টাকা ফেরত চাইল প্রশাসন। আলেনুর বিবির প্রশ্ন, ‘দিনমজুরি করে সংসার চলে। এখন প্রশাসন টাকা ফেরত চাইলে কোথায় পাব?’ আলেনুর বিবির মেয়ে কোহিনূর খাতুন বলেন, এসআইআরে পরিবারের প্রত্যেকের নাম উঠেছে। মায়ের বাপের বাড়ির সবার নামও আছে। কিন্তু, কোনোভাবে শুধু মায়ের নামটাই বাদ পড়েছে। নিয়ম মেনে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কবে নিষ্পত্তি হবে, জানি না। সোমবার ওই বধূ বিডিও অফিসে গেলে তাঁকে ট্রাইব্যুনালের আবেদনপত্র সহ একটি দরখাস্ত জমা দিতে বলা হয়। দুবরাজপুরের বিডিও শুভদীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, সরকারের নির্দেশ মেনেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। ওই বধূ যেহেতু ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন, তাই তাঁকে সেই আবেদনপত্র সহ দরখাস্ত জমা দিতে বলেছি। আমরা সেটা জেলায় পাঠাব। জেলা থেকে যেমন নির্দেশ আসবে, সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন সূত্রে খবর, দুবরাজপুর ব্লকে এখনও অবধি ৬৬জনকে টাকা ফেরতের নোটিস দেওয়া হয়েছে। পাকা বাড়ি থাকা, আগে সরকারি বাড়ি পাওয়া ও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া-মূলত এই তিনটি কারণেই নোটিস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন, এসআইআরে ভুলবশত নাম বাদ গেলে কেন টাকা ফেরত চাওয়া হবে? বাম-কংগ্রেসের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় জেলার হাজার হাজার বৈধ নাগরিকের নাম বাদ পড়েছে। ট্রাইব্যুনালে দিনের পর দিন তাঁদের আবেদন ঝুলে রয়েছে। অথচ প্রশাসন নিজেদের গাফিলতি না দেখে সাধারণ মানুষের উপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছে। প্রশাসনিক ভুলের কারণে গরিব মানুষ প্রাপ্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ