নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিরোধীদের বিঁধতে এবার এইমসকেই অন্যতম হাতিয়ার করল মোদি সরকার। বুধবার রাজ্যসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আলোচনায় জবাবি ভাষণ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। তখনই এইমস ইস্যুতে কংগ্রেস সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির কড়া সমালোচনা করেন নাড্ডা। তিনি বলেন, ‘জওহরলাল নেহরু প্রথম দেশে এইমস তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ওই একটিই। এরপর ১৯৯৮ সালে অটলজির সময় দেশে ছ’টি এইমস তৈরি হয়। পরবর্তী ক্ষেত্রে ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় আসে। কিন্তু ১০ বছরে সারা দেশে মাত্র একটি এইমস তৈরি হয়। সেটাও রায়বেরিলিতে। অথচ কেন্দ্রে মোদি সরকারের ১০ বছরের সময়কালে, ২০১৪-২৪ সালের মধ্যে সারা দেশে ২২টি এইমস তৈরি হয়েছে। এটাই দু’টো সরকারের মধ্যে ফারাক তৈরি করে দেয়। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দুই জমানার মধ্যে নীতিগত যে পার্থক্য রয়েছে, তাও স্পষ্ট।
রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রকের উপর আলোচনার সময়ও অনেক সাংসদ এইমসকে একটি ব্র্যান্ড বলে উল্লেখ করেছেন। এটি আদতেই তাই। এইমস একটি ব্র্যান্ড। আর ব্র্যান্ডের সঙ্গে আমরা কোনও আপোষ করি না। নিয়মিতভাবে এইমসের শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলে। পাশাপাশি ক্যান্সার চিকিৎসার প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। নাড্ডা বলেন, আরও ভালো কাজের লক্ষ্যে কলকাতার চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালকে ইতিমধ্যে ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। হরিয়ানায় স্টেট-অব-দ্য-আর্ট ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। রোগীরা সেখানে বিশ্বমানের পরিষেবা পাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ২০১৪-১৫ আর্থিক বছরে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে খরচের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে তা হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা।
দেশে প্রথম করোনা রোগী চিহ্নিত হওয়ার সময় থেকে পরবর্তী ন’মাসের মধ্যে কোভিড টিকার আবিষ্কার, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির ক্রমাগত মানোন্নয়ন সহ একাধিক ক্ষেত্রের কথাও এদিনের ভাষণে উল্লেখ করেন নাড্ডা। তিনি জানান, ২০১৭ সালের স্বাস্থ্যনীতির উপর ভিত্তি করেই স্বাস্থ্য পরিষেবায় যাবতীয় উন্নতি হয়েছে। যক্ষ্মা চিহ্নিতকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এক্স-রে যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আগামী দু’বছরের মধ্যে সারা দেশে আরও ২৫ হাজার জন ঔষধি কেন্দ্র খোলা হবে বলেও বুধবার রাজ্যসভায় ঘোষণা করেছেন নাড্ডা।