Bartaman Logo
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কেন্দ্রীয় বাহিনী বাবদ ব্যয় ভোটে পুলিশি বন্দোবস্তের অন্তর্গত নয়, আইনি যুক্তি দেখিয়ে নয়াদিল্লিকে কড়া চিঠি নবান্নের

ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যে এসে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। টহল দেওয়াও শুরু করে দিয়েছে জেলায় জেলায়। এর মাঝেই কেন্দ্রীয় বাহিনী বাবদ খরচ নিয়ে আরো তীব্র হল কেন্দ্র-রাজ্য দ্বৈরথ

কেন্দ্রীয় বাহিনী বাবদ ব্যয় ভোটে পুলিশি বন্দোবস্তের অন্তর্গত নয়, আইনি যুক্তি দেখিয়ে নয়াদিল্লিকে কড়া চিঠি নবান্নের
  • ৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যে এসে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। টহল দেওয়াও শুরু করে দিয়েছে জেলায় জেলায়। এর মাঝেই কেন্দ্রীয় বাহিনী বাবদ খরচ নিয়ে আরো তীব্র হল কেন্দ্র-রাজ্য দ্বৈরথ। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের কেন্দ্রীয় বাহিনী বাবদ খরচ উদ্ধার নিয়ে ফের মোদি সরকারকে চিঠি পাঠাল নবান্ন। এই চিঠিতে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনকে রাজ্যের দায়িত্বে থাকা ‘পুলিশি বন্দোবস্তের’অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যুক্তিযুক্ত নয় বলেই দাবি করা হয়েছে রাজ্যের তরফে। গত লোকসভা নির্বাচনের বকেয়ার নিরিখে এই চিঠি লেখা হলেও এই ইস্যুর ফয়সলা এবারের বিধানসভা ভোটের পাশাপাশি পরবর্তীতে রাজ্যের সমস্ত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর খরচ বহনের বিষয়টি নির্ভর করছে। কারণ, নয়াদিল্লি এই যুক্তি মেনে নিলে রাজ্যের সমস্ত নির্বাচনেই কেন্দ্রীয় বাহিনী বাবদ খরচ মেটাতে বাধ্য থাকবে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৪ লোকসভা ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী বাবদ বকেয়া নিয়ে কেন্দ্রকে একাধিকবার চিঠি লেখা হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে। শেষ চিঠি দেওয়া হয়েছে ২০ ফেব্রুয়ারি। কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের ডেপুটি ডাইরেক্টর (ফাইন্যান্স) সুনীলকুমার জৈনকে দেওয়া চিঠিতে রাজ্যের বক্তব্য, ‘পুলিশ বন্দোবস্ত’ সাধারণত রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অংশ হলেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ব্যয়কে সেই একই খাতে ফেলা যুক্তিযুক্ত নয়। কারণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ও তার পরিসর নির্ধারণ করে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাহিনীর থাকার জায়গা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতে রাজ্যকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হয়। ফলে এই বাবদ হওয়া খরচ কেন্দ্রের মিটিয়ে দেওয়া উচিত। 

Advertisement

এর আগের চিঠিতে ১৯৭৭ সালের একটি কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা তুলে ধরে রাজ্য দাবি করেছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী বাবদ ব্যয়ের ভার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। সূত্রের খবর, তারপর পরই, ১৯৭৭ সালের নির্দেশিকার পাশাপাশি ২০০৩ সালের একটি অর্ডার (যাতে লেখা নির্বাচনের সময়ে ‘পুলিশি বন্দোবস্ত’ সম্পূর্ণ রাজ্যের দায়িত্ব) আইন মন্ত্রকের তরফে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। জানতে চাওয়া হয়েছে কমিশনের মতামত। কিন্তু কোনো পরিষ্কার নির্দেশিকা না-পাওয়ায় পুরো ‘রিইম্বার্সমেন্ট’ বা খরচ মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াই থমকে গিয়েছে। ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় বাহিনী বাবদ রাজ্যের খরচ হয়েছিল প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা। এসবের মাঝেই কেন্দ্রীয় বাহিনী বাবদ খরচ ‘পুলিশি বন্দোবস্ত’-এর অংশ হিসেবে ধরে নেওয়া যুক্তিযুক্ত নয় বলেই চিঠি পাঠানো হল কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের কাছে। কারণ, কেন্দ্র এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিলে তবেই লোকসভা নির্বাচনে এই বাবদ খরচের অডিটের কাজ শুরু করতে পারবে এজি বেঙ্গল বা প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলের অফিস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ