


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত রূপায়ণ করলে কর্মী-আধিকারিকদের পুরস্কৃত করা হবে। মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘর থেকে রাজ্য সরকারের গত সাড়ে ১৪ বছরের উন্নয়নের বিস্তারিত খতিয়ান বা রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা করেন। কাজগুলি ঠিকমতো সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তার উপর নজরদারি চালাতে মন্ত্রী ও বিভাগীয় সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। জেলায় জেলায় ১০ জন আধিকারিককে নজরদারির জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, মুখ্যসচিবকেও বিশেষ নজরদারি টিম গঠন করতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষকে উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে রাজ্যজুড়ে ‘মে আই হেল্প ইউ’ বুথ তৈরি করতেও বলেছেন তিনি। এ ব্যাপারে মুখ্যসচিব জেলাশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাঠাবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।
তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর যেসব উন্নয়ন হয়েছে, তার বিস্তারিত খতিয়ানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’। অনুষ্ঠানের সূচনায় বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী ‘উন্নয়নের পাঁচালি সংগীত’ পরিবেশন করেন। পাঁচালির সুরে গানের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হয়। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত পুস্তিকাটি আরও বেশ কিছু সাম্প্রতিক তথ্য ও পরিসংখ্যান সংযোজন করে কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে। অনুষ্ঠানে রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের পাশাপাশি মুখ্যসচিব সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান সচিব উপস্থিত ছিলেন। জেলাশাসকরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন অনুষ্ঠানের সঙ্গে।
উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য মুখ্যমন্ত্রী নিজের ভাষণেও তুলে ধরেন। পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি জানান, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বিপুল ঋণের বোঝা রাজ্যের ঘাড়ে চেপেছিল। তারপরও পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ১৭ গুণের বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সামাজিক খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ১৪ গুণ। নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহ বেড়েছে। দেউচা পাচামি সহ বড় ধরনের শিল্প-বাণিজ্য প্রকল্পে আগামী দিনে কর্মসংস্থানের সুযোগ কত বাড়বে, তাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ৪২ লক্ষ তরুণ-তরুণীকে কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দিলেও রাজ্য সরকার গ্রামীণ কর্মসংস্থান, আবাস, রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প রূপায়ণ করেছে। ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পে গড়ে পরিবার পিছু ৭০ দিনের বেশি কাজ দেওয়া হয়েছে। অন্য রাজ্যে অত্যচারিত হয়ে ফিরে আসা ৩১ লক্ষ পরিষায়ী শ্রমিককে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের সঙ্গে তাঁদের যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে মাসে মাসে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন ২ কোটি ২১ লক্ষ মহিলা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্য রাজ্যে ঝাড়াইবাছাই করে মহিলাদের আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এখানে সবাইকে দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে সরকার ৭৪ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে।’ স্বাস্থ্যসাথী, কৃষকবন্ধু, খাদ্যসাথী সহ বিভিন্ন প্রকল্পে সুবিধা প্রাপকদের সংখ্যা ও খরচের পরিমাণ উল্লেখ করেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এখন ১২টি রাজ্যে ডিম সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান। তবে ডিমের দাম বৃদ্ধির জন্য তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে দায়ী করেন। পেঁয়াজ উৎপাদনে এখন রাজ্য স্বয়ম্ভর বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।