সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য সবরমতী রিপোর্ট’ দেখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এতে অবশ্য নতুন কিছু নেই। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুও সিনেমা দেখেছেন। কিন্তু ফারাক রয়েছে বিষয়বস্তুতে। বিক্রান্ত ম্যাসির এই সিনেমাটি গুজরাত হিংসা নিয়ে বিবিসির তথ্যচিত্রের পাল্টা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এটি প্রোপাগান্ডা সিনেমা ছাড়া অন্য কিছুই নয়। অন্যদিকে, জওহরলাল নেহরু দেখেছিলেন ‘নয়া দৌড়’। দেশ তখন সদ্য স্বাধীন হয়েছে। সাম্প্রদায়িক হিংসার রক্তস্রোতে মাটি তখনও ভিজে। দু’শো বছরের ব্রিটিশ শাসন অর্থনীতির শিরদাঁড়া গুঁড়িয়ে দিয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যর মতো পরিষেবা তো দূরের কথা—রাস্তা, পানীয় জল ও খাবারের ব্যবস্থা করাও ছিল পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ। বিভাজনের ধাক্কা কাটিয়ে দেশকে আধুনিক করে তোলার ওই পর্বে মুক্তি পেল গরিব মানুষের জীবন সংগ্রামের ছবি দিলীপ কুমার ও বৈজয়ন্তী মালা অভিনীত ‘নয়া দৌড়’।
Advertisement
স্বাধীনতার পর ভারত মিশ্র অর্থনীতি গ্রহণ করে। সমাজতন্ত্রে আস্থা ছিল নেহরুর। এজন্য গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের পথে হেঁটেছিলেন তিনি। তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক কম হয়নি। কিন্তু সকল মতের সমন্বয়ের বার্তাই দিয়েছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। এই প্রেক্ষাপটেই তৈরি হয় ‘নয়া দৌড়’। দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা চালুর পরের বছরের এই সিনেমায় কুন্দনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন জীবন। ঘোড়ার গাড়ি তখন গ্রামের পরিবহণের মাধ্যম। কুন্দন মোটরবাস চালু করেন। এর ফলে টাঙ্গাওয়ালাদের জীবিকা ধাক্কা খায়। এই সংঘাতের মধ্যে দিয়ে নবনির্মাণের সহজ সরল কাহিনী সেলুলয়েডে তুলে ধরেছিলেন পরিচালক বি আর চোপড়া। জন হেনরির মতোই মেশিনের বিরুদ্ধে ছিলেন না দিলীপ কুমার। কিন্তু সিনেমার শেষ দৃশ্যে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের মতো গরিবদের মেশিনের সঙ্গে কোনও শত্রুতা নেই কুন্দনবাবু। দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোটানোই আমাদের চিন্তা। বস্তিতে তুমিও থাক, আমরাও থাকি। এখানে মোটর গাড়ি থাকবে, মেশিনও থাকবে, এমন কোনও উপায় বের কর।’ নেহরু জমানার এই সিনেমা এখনও চর্চা চলে।



